kalerkantho


সন্তানসহ মাকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ

স্বামী-শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ময়মনসিংহের ভালুকায় চার মাস বয়সী কন্যাশিশুসহ এক মায়ের মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। গত বুধবার রাতে তাদের মৃত্যু হয়। উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া নয়ানীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক।

মৃত নারীর নাম নাজমা আক্তার ময়না (২৪)। তিনি হবিরবাড়ী এলাকার নুহু মিয়ার মেয়ে। ভালুকা মডেল থানা পুলিশ বলছে, এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশ ও ময়নার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নয়ানীপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় ছয় বছর আগে নাজমা আক্তার ময়নার বিয়ে হয়। সাইফুল পেশায় গাড়িচালক। এরই মধ্যে দুটি ফুটফুটে কন্যাসন্তান জন্ম নেয় ওই দম্পতির ঘরে। তাদের একজনের নাম সায়মা ও অন্যজনের নাম সাদিয়া। সায়মার বয়স চার বছর এবং সাদিয়ার চার মাস। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিল সাইফুল এবং যৌতুকের জন্য মাঝেমধ্যে ময়নার ওপর নির্যাতনও চালানো হতো। সর্বশেষ শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কিনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীর ওপর চাপ দেয় সাইফুল ইসলাম। এ অবস্থায় বুধবার রাত ২টার দিকে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে কল দিয়ে ময়নার বাবাকে বলা হয় যে তাঁর মেয়ে বিষ খেয়েছে। নুহু মিয়া খবর পেয়ে রাতেই মেয়ের বাড়িতে যান। কিন্তু কাউকেই ওই বাড়িতে পাননি তিনি। পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে মেয়ে ময়না ও নাতনি সাদিয়ার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই নাজমা আক্তারের স্বামীসহ ওই বাড়ির লোকজন আত্মগোপনে চলে গেছে বলে জানা গেছে।

জসিম উদ্দিন নামের স্থানীয় এক ভাড়াটিয়া জানান, ঘটনার রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিশু সাদিয়ার কান্না শুনে ওই বাড়িতে গিয়ে তিনি শিশুটিকে কাতরাতে দেখেন। ওই সময় শিশুটির মুখ দিয়ে সাদা ফেনার মতো বেরোচ্ছিল। তখন শিশুটির মা পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে শিশুটিকে স্থানীয় এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় খবর আসে শিশুটির মা বিষাক্রান্ত হয়েছেন। পরে মা-মেয়েকে ভালুকা ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।

ময়নার বাবা নুহু মিয়ার দাবি, স্বামী-শাশুড়িসহ ওই পরিবারের লোকজন মিলে তাঁর মেয়ে ও নাতনিকে বিষ দিয়ে হত্যা করেছে। তিনি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ভালুকা মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ময়নাতদন্তের পর মা-মেয়ের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

 



মন্তব্য