kalerkantho


চকরিয়ার মহাসড়ক ফের রক্তাক্ত, নিভল চার প্রাণ

বিভিন্ন স্থানে আরো চারজন নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



২৪ ঘণ্টাও পেরোয়নি। এরই মধ্যে কক্সবাজারের চকরিয়ার মহাসড়ক ফের রক্তাক্ত হলো। এবার নিভল চার প্রাণ। এর আগে গত মঙ্গলবার চকরিয়ার মহাসড়কে নিহত হয়েছিল সাতজন। এদিকে একই মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতিতে আরেক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কালের কণ্ঠ’র চট্টগ্রাম ব্যুরোর নিজস্ব প্রতিবেদক আসিফ সিদ্দিকীসহ তিনজন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফেনীর দাগনভূঞা ও মুন্সীগঞ্জর গজারিয়ায় আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন চারজন। এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : চকরিয়া (কক্সবাজার) : এক দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় গতকাল বুধবার সকালে ফের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। আহত হয়েছে শিশুসহ আরো চারজন। ভারী বর্ষণের মধ্যে হারবাং ইনানী রিসোর্টের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ইজি বাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আহতদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পর সড়কের দুই প্রান্তে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। নিহতরা হলেন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রেমবাজার এলাকার সেলিম উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আক্তার (২৫), কক্সবাজারের পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়নের দশের ঘোনার আবদুল খালেকের ছেলে ইউনুস মিয়া (৩৫), চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের মুসলিমপাড়ার আবদুস সাত্তারের ছেলে তাজ উদ্দিন (২৫) এবং একই ইউনিয়নের জমিদারপাড়ার ছৈয়দ আহমদের ছেলে ইজি বাইকের চালক আবু তাহের (৩৮)।

মহাসড়কের চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ নূর এ আলম পলাশ বলেন, ‘এই দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি হাইওয়ে পুলিশ জব্দ করেছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকাল পৌনে ১১টার দিকে বরইতলী নতুন রাস্তার মাথা থেকে সাতজন যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে নিষিদ্ধ ইজি বাইক হারবাংয়ের দিকে রওনা দেয়। এ সময় ইজি বাইকটি হারবাং ইনানী রিসোর্টের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের (ঢাকা মেট্রো ম-১১-৪৪১৪) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন নিহত হন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শোভন দত্ত জানান, আহত চারজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। এর মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে চকরিয়ার বরইতলীর নতুন রাস্তার মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিল সাতজন।

এদিকে চট্টগ্রাম থেকে প্রাইভেট কারযোগে কক্সবাজারের চকরিয়ায় আসার পথে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কালের কণ্ঠ চট্টগ্রাম ব্যুরোর নিজস্ব প্রতিবেদক আসিফ সিদ্দিকী (৪০), তাঁর মা জওশন আরা বেগম (৬০) এবং চালক মো. ইকবাল (৩২)। তাঁদের চকরিয়া শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আসিফ সিদ্দিকী জানান, গতকাল সকালে তাঁদের বহনকারী প্রাইভেট কারটি মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতি মিডওয়ে-ইন রেস্টুরেন্টের কাছে পৌঁছলে সামনে থাকা স্টার লাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ওই রেস্টুরেন্টে যাত্রাবিরতির জন্য সিগন্যাল না দিয়ে সড়কের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে পড়ে। এই অবস্থায় তাঁদের বহনকারী কারটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ে। এতে তাঁরা আহত হন।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের মাস্তাননগর হাসপাতাল এলাকার ইউ টার্নে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানকে পেছন দিক থেকে আরেকটি কাভার্ড ভ্যান ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক আহম্মদ কবির (৩৮)। হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে মারা যান তাঁর সহকারী রুম্মান হোসেন রুবেল (২২)। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মাস্তাননগর বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কবির কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে এবং রুবেল লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চরলরেন্স গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। এ দুর্ঘটনায় গৌতম নামের আরেক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ : গজারিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মো. গোলাম মোস্তফা (৫৫) নামের এক পথচারী নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গোলাম মোস্তফা উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নে আনারপুরা গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালেব প্রধানের ছেলে।

ফেনী : দাগনভূঞায় বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপের চালক নজরুল ইসলাম (৩২) নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে ফেনী-মাইজদী সড়কের দাগনভূঞা থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নজরুল ইসলাম চট্টগ্রামের বাঁশখালীর তাহের ঘোনা গ্রামের মন্তু মিয়ার ছেলে। ঘাতক বাসটি জব্দ করা গেলেও চালক পালিয়েছে।

 



মন্তব্য