kalerkantho


প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন

তফসিলের আগে খালেদার মুক্তি চান বিএনপি নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



তফসিলের আগে খালেদার মুক্তি চান বিএনপি নেতারা

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের সামনে গতকাল প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতারা। তাঁরা হুমকি দিয়ে বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া একতরফা নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া যাবে না। গতকাল বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসনের সুচিকিৎসা ও তাঁর মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে আয়োজিত প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে দলটির নেতারা এ কথা বলেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের সামনে অনশন চলে। এতে জামায়াত নেতারাও অংশ নেন। এ কর্মসূচি দেশব্যাপী ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ফরিদপুরে পুলিশের বাধায় কর্মসূচি ভণ্ডুল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অনশন শেষে সমাপনী বক্তব্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্তি করেই আমরা আগামী নির্বাচন করব। আজকে সারা দেশে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জনগণ ও বিভিন্ন দলের মধ্যে যে আগামী নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও বলছে বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে হবে।’

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এমন কর্মসূচি দেওয়া হবে যে সরকারের নৌকা পানিতে ভেসে যাবে। আর আছে মাত্র মাসখানেক সময়। এ সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে হবে। এবার রাস্তায় নামলে যাতে কেউ বাড়ি ফিরে না যায় আন্দোলন সফল না করে—সে আহ্বান জানাচ্ছি।’

দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান। এ সময় এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আজ গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত। এর থেকে উত্তরণের পথ আগামী জাতীয় নির্বাচন, যে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।’

গত সোমবার একই দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ সারা দেশের জেলা সদর ও মহানগরে মানববন্ধন করে বিএনপি। এ সময় বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। এ পরিস্থিতিতে গতকাল প্রতীকী অনশন কর্মসূচি দেওয়া হলে উপস্থিতি কম হয়। যারা এসেছিল তারাও অনেকে কর্মসূচি শেষ হওয়ার আধাঘণ্টা আগে থেকে অনশনস্থল ত্যাগ করা শুরু করে। কর্মসূচির সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন যখন সমাপনী বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন উপস্থিতি একেবারে কমে ছিল। সাদা পোশাকের পুলিশ মৎস্য ভবন মোড় ও কাকরাইল এলাকা থেকে বিএনপির ঘরমুখো কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করেও বলে জানা গেছে।

ঢাকায় অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আমাদের বক্তব্য খুব পরিষ্কার, দেশনেত্রীকে কারাগারে রেখে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না।’ তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ রাজপথে সব আন্দোলন কর্মসূচিতে বিএনপির পাশে থাকবে জামায়াত।

কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘প্রতিটি থানায় হাজার হাজার কর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। ভয়ে কম্পমান এই সরকার। এত অত্যাচারের পরও বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘরে বসে থাকেনি এবং ঘরে বসে থাকবে না।’ আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যদি কেউ মনে করে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, আমাদের মধ্যে কেউ যদি আড়ালে-আবদালে নির্বাচনে যাওয়ার চেষ্টা করে তাদেরকে ঘরের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য আপনারা সজাগ থাকবেন।’

প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদের পরিচালনায় প্রতীকী অনশনে বিএনপির আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, মিজানুর রহমান মিনু, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শিরিন সুলতানা, নাজিমউদ্দিন আলম, মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, যুবদলের মোরতাজুল করীম, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপের আজহারুল ইসলাম, কল্যাণ পার্টির সাহিদুর রহমান তামান্না। অনুষ্ঠানে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, বরকতউল্লা বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠন, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ফরিদপুরে জেলা বিএনপি ও শহর বিএনপির ব্যানারে আলাদা আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করার উদ্যোগ নিলে পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। জানা যায়, কর্মসূচি শুরুর ১৫ মিনিটের মধ্যে স্বাধীনতাচত্বর থেকে শহর বিএনপি এবং কর্মসূচি শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে অম্বিকা মেমোরিয়াল হলের সামনে থেকে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের উঠিয়ে দেয় পুলিশ।

 



মন্তব্য