kalerkantho


তোতলানোকে ব্যঙ্গ মনে করে ছাত্রকে পিটিয়ে হাসপাতালে

মাগুরা প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



তোতলানো সমস্যা আছে নবম শ্রেণির ছাত্র যায়েদ বিন জামানের। বিষয়টি নাকি জানা ছিল না শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর। ক্লাসে যায়েদের বাচনভঙ্গিকে ব্যঙ্গ মনে হলো তাঁর। রাগান্বিত হয়ে পেটালেন ছাত্রকে। শেষ পর্যন্ত আহত ছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। গত মঙ্গলবার মাগুরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীর বাবা মুন্সী কায়েমুজ্জামান দাবি করেন, যায়েদ দীর্ঘদিন ধরে স্নায়বিক দুর্বলতায় ভুগছে। মাঝেমধ্যে সে তুতলিয়ে কথা বলে। এ কারণে তাকে মাগুরার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যায়েদকে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক শাস্তি না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে গত জুলাইয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন জানান তিনি। এর পরও গণিত বিষয়ের শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী শ্রেণিকক্ষে যায়েদকে নির্দয়ভাবে পিটিয়েছেন। বিষয়টি যায়েদ প্রথমে বাড়িতে বলেনি। পরে রাতে প্রচণ্ড জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি  করা হয়। এ সময় সে ঘটনা খুলে বলে।

হাসপাতালে কথা হয় শিক্ষার্থী যায়েদ বিন জামানের সঙ্গে। সে বলে, ‘মৃত্যুঞ্জয় স্যার জানতে চান, ক্লাসের বেতন এখন থেকে অনলাইনে দিতে হবে—এ বিষয়টি আমি জানি কি না। উত্তর দেওয়ার সময় আমি একটু তুতলিয়ে কথা বলেছিলাম। স্যার সেটিকে ব্যঙ্গ হিসেবে নিয়ে আমাকে পেটাতে থাকেন। এ সময় আমি স্যারের পা জড়িয়ে ধরলে তিনি আরো মারতে থাকেন।’

এ বিষয়ে শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী বলেন, ‘ওই ছাত্রের কথাবার্তা আমার কাছে ব্যঙ্গাত্মক বলে মনে হয়েছিল। এ কারণে তাকে শাসন করেছি। তবে সে যে অসুস্থ, তা আমার জানা ছিল না। এ কারণে আমি দুঃখিত। আমি তাকে হাসপাতালে দেখে এসেছি।’

যোগাযোগ করা হলে মাগুরা জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান বলেন, ‘আহত ছাত্রের বাবা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক আহমেদকে বিষয়টির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’



মন্তব্য