kalerkantho


শহিদুল আলমের জামিন ফের নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শহিদুল আলমের জামিন ফের নামঞ্জুর

নামঞ্জুর করা হয়েছে আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমের জামিন আবেদন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এই নামঞ্জুর আদেশ দেন। গত সোমবার হাইকোর্ট এক আদেশ দিয়ে মহানগর দায়রা আদালতে করা জামিনের আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গত ৬ আগস্ট ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ড. শহিদুলের জামিনের আবেদন নাকচ হয়। এরপর গত ১৪ আগস্ট মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত গতকাল জামিন আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ ধার্য করেন। এর মধ্যে গত  ২৬ আগস্ট তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করা হয়। মহানগর দায়রা আদালত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হলে তা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গতকাল শহিদুলের পক্ষে ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া শুনানি করেন। জ্যোতির্ময় বড়ুয়া শুনানিতে বলেন, কী মিথ্যা তথ্য দিয়ে ছাত্র আন্দোলনকে উসকে দিয়েছেন শহিদুল, তা এজাহারে নেই। তাঁর কোন বক্তব্যে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে তাও এজাহারে উল্লেখ নেই। সরকারের সমালোচনা করলেই রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় না। সরকার আর রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এক কথা নয়। সরকারের সমালোচনা করা সাংবিধানিক অধিকার। ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭(১) ধারা ব্যাখ্যা করেন। যেসব উপাদানে এই আইনে মামলা হওয়ার কথা, সে ধরনের কোনো অভিযোগ এজাহারে নেই বলে তিনি দাবি করেন। জ্যোতির্ময় আরো বলেন, ড. শহিদুল একজন মানবাধিকারকর্মী। তিনি রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এমন কোনো কাজ করেননি। বরং তাঁকে গ্রেপ্তার করায় রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

শেষে ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, আসামি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি ছাড়া পেলে পালাবেন না। তিনি দেশ ছেড়ে যাবেন না। তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিরা শহিদুলের মুক্তি চেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিকও মুক্তি চেয়েছেন। এ ছাড়া এই মামলার এজাহার ও জব্দ তালিকার মধ্যে ভিন্নতা দেখা যায়। আইনগতভাবেও তিনি জামিন পেতে পারেন।

তবে রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর দায়রা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল্লাহ আবু জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ছাত্র আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শহিদুলের বিরুদ্ধে। তিনি বিদেশি একটি টেলিভিশনে বলেছেন, এই সরকার অনির্বাচিত সরকার। তিনি সরকার উত্খাতের একটি ষড়যন্ত্র করে নিজে ফেসবুক লাইভে এসে বক্তব্য দিয়েছেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে গত ৫ আগস্ট রাতে ধানমণ্ডির বাসা থেকে শহিদুল আলমকে আটক করা হয়।



মন্তব্য