kalerkantho


গ্রাহক ঠকানো বিজ্ঞাপন

ফাঁসছে সিনারোজ ও বায়োরোজ শরবত

শওকত আলী   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং করে, পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচারসহ নানা উপায়ে পণ্যের মোড়কে গ্রাহক ঠকানো মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কথা শোনেনি মোড়কাবদ্ধ পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। যে কারণে এবার শাস্তির মুখে পড়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান।

দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের সিনারোজ শরবত ও ফ্রুট সিরাপ; বায়ো ন্যাচারস লিমিটেডের (বায়োফার্মা) বায়োরোজ শরবত ও ফ্রুট সিরাপের এবং একটি ডায়াবেটিস দুধের (গুঁড়া দুধ) প্রচারণায় ও মোড়কে মিথ্যা তথ্য থাকায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের বিশুদ্ধ খাদ্য তাদের বিরুদ্ধে আদালতে আলাদা আলাদা তিনটি মামলা করেছে। মোড়কাবদ্ধ খাদ্য প্রবিধানমালা-২০১৭-এর বিভিন্ন ধারার শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের নামে এ মামলা হয়েছে। মামলাগুলো করেছেন বিএফএসএ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক (স্যানিটারি ইন্সপেক্টর) মো. কামরুল হাসান। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর।  

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (ডা.) শেখ সালাহ্উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লেবেলিং নীতিমালা না মেনে বিজ্ঞাপনে যা খুশি প্রচার করাটা নিয়মবহির্ভূত। এটি ভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণার শামিল। এগুলো লেবেলিং নীতিমালার পরিপন্থী। এ অপরাধে মামলা হয়েছে।’

সিনারোজ শরবত ও বায়োরোজ শরবতের ক্ষেত্রে অভিযোগ মোটামুটি একই ধরনের। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এ দুটি শরবতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের বর্ণনায় বলা হয়েছে ‘হিট স্ট্রোক’ রোগের ওষুধ।  যার কোনো সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা বা প্রমাণ নেই। এ ধরনের মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে অপকৌশলে পণ্য বিক্রয়ের জন্য।

সিনারোজে ফলের সিরাপে গোলাপের নির্যাস ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে। এটা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং ৩২ (খ), ৩৩, ৪১ ও ৪২ ধারার লঙ্ঘন একই আইনের ৫৮ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালের চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল হান্নান ওই অপরাধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। তাঁর অপরাধ আমলে নিয়ে এ ধরনের বিজ্ঞাপন বন্ধ করাসহ ন্যায়বিচারের প্রার্থনা জানানো হয়েছে মামলায়। একই ধরনের অপরাধ হয়েছে বায়োরোজ শরবত ও ফ্রুট সিরাপের ক্ষেত্রে।

আরেকটি মামলা হয়েছে ডায়াবেটিস গুঁড়া দুধ বিক্রির একটি কম্পানির বিরুদ্ধে। তাদের প্যাকেটের গায়ে, বিভিন্ন দোকানে সাইনবোর্ডে অতিরঞ্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ‘এক্সপার্ট ইন মিল্ক নিউট্রিশন’ এবং ‘স্পেশাল মিল্ক নিউট্রেশন ফরমুলা ফর ডায়াবেটিস’, ‘প্রোভেন ফর্মুলা’ উল্লেখ করা ওই ডায়াবেটিক মিল্কের বিতরণ করা লিফলেটে ডাক্তার/বিশেষজ্ঞদের ছবি ব্যবহার করে তা ‘সার্টিফায়েড’ বলা হয়েছে; ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে এই দুধ ‘লো-জি আই ডায়াবেটিক মিল্ক হিসেবে পরীক্ষিত ফর্মুলার’ বলে প্রচার করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে এটা অপকৌশল, বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা এবং প্রবিধানমালার সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘন।



মন্তব্য