kalerkantho


বিজিএমইএ-বিকেএমইএ যৌথ সভা

নামমাত্র বর্ধিত মজুরিও প্রণোদনা হিসেবে চান শিল্পোদ্যোক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ন্যূনতম মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধির প্রস্তাব করা ছয় হাজার ৩৪০ টাকার অঙ্কটাকেও যথেষ্ট বড় মনে করছেন তৈরি পোশাক কারখানার মালিকরা। নানামুখী প্রতিকূলতার উল্লেখ করে এই মজুরিকেও শিল্পের জন্য বোঝা হিসেবে দেখছেন তাঁরা। এমনকি বর্তমান মজুরি থেকে যতটুকু বাড়ানো হবে তা-ও যেকোনা উপায়ে সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা হিসেবে আদায়ের দাবি তাঁদের। শিল্প মালিকরা দাবি আদায়ের ব্যবস্থা করতে পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর যৌথ উদ্যোগে গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত জরুরি সাধারণ সভায় এমন দাবি তুলে ধরা হয়। রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত সভায় মজুরি বৃদ্ধির বিকল্প হিসেবে বছর বছর মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করে শ্রমিকদের পুষিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। নির্বাচনের বছরে এই মজুরি বৃদ্ধিকে ৪৪ লাখ শ্রমিকের বিপরীতে দুই হাজার গার্মেন্ট মালিককে ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর শামিল হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মজুরি বৃদ্ধির বিপরীতে প্রতিবছর মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হবে সরকারকে। এ ছাড়া কোনো কারখানা মালিক ব্যবসা ছেড়ে যেতে চাইলে সে সুযোগ রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সচিবের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব। মালিকের সামর্থ্য ও শ্রমিকের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোর প্রয়োজন বিবেচনা করেই একটা গ্রহণযোগ্য মুজরি নির্ধারণ করতে চাই আমরা। এ বিষয়ে উদ্যোক্তাদের বক্তব্য জানার জন্যই এই সভার আয়োজন করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনায় সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডে ন্যূনতম মজুরি হিসেবে ছয় হাজার ৩৪০ টাকা প্রস্তাব করেছেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। অন্যদিকে এর প্রায় দ্বিগুণ ১২ হাজার ২০ টাকা প্রস্তাব করেছেন শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি জাতীয় শ্রমিক লীগের নারীবিষয়ক সম্পাদিকা বেগম শামসুন্নাহার ভুইয়া।

আলোচনায় অংশ নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, মজুরি যতটুকু বাড়ানো হবে তার সবটুকুই আদায় করতে হবে সরকারের কাছ থেকে। শিল্পকে লাভজনক করার জন্য যা যা করা দরকার তার সবই করতে হবে। বেতন বাড়াতে হলে ট্যাক্স কমানো কিংবা অন্যান্য প্রণোদনা দিতে হবে। এর বিকল্প হিসেবে বছর বছর মজুরি না বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করার প্রস্তাবও করেন তিনি।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের বিভিন্ন সেবা সংস্থা উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করে থাকে। উদ্যোক্তাদের এই রক্তক্ষরণ কমিয়ে আনা গেলে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো সম্ভব। তিনি বলেন, ঋণের সুদ নিয়ে নয়ছয় করছেন ব্যাংক মালিকরা। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। বিজিএমইএর অপর সাবেক সভাপতি টিপু মুনশি এমপি বলেন, নির্বাচনের আগে এই মজুরি বৃদ্ধির আলোচনা উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ তৈরি করছে। প্রতিযোগী দেশের শ্রমিকদের সঙ্গে দেশের শ্রমিকদের দক্ষতা বিবেচনা করেই মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। শিল্প রক্ষার স্বার্থে হিসাব-নিকাশ করে মজুরি সমন্বয় করার পরামর্শ দেন তিনি।

বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান এমপি বলেন, জ্বালানির দর বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। সেই ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।



মন্তব্য