kalerkantho


লাশ দাফনের ১১ দিন পর গৃহবধূ জীবিত উদ্ধার!

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



যশোরে সাথী খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধূ হত্যার শিকার হয়েছেন ভেবে তাঁর লাশ দাফনের ১১ দিন তাঁকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাঁকে যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের জলকার গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে যাঁকে দাফন করা হয়েছে, তিনি অন্য কেউ। সাথী ধূর্ত প্রকৃতির।

জীবিত উদ্ধার হওয়া সাথী খাতুন যশোরের চৌগাছা উপজেলার নাইড়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের মেয়ে। তিনি একই উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার স্ত্রী। পুলিশের কাছে সাথী দাবি করেছেন, তিনি স্বামীর ওপর রাগ করে জলকার গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে পুলিশ বলছে, সাথী প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান। তিনি ধূর্ত প্রকৃতির। গতকাল রবিবার তাঁকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেছেন যশোরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত।

জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট যশোর সিটি কলেজের ডোবা থেকে পুলিশ এক নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। তাঁর খোঁজ না পাওয়ায় পরের দিন পচাগলা লাশটি অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে দাফন করে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। কিন্তু খবর পেয়ে ওই দিনই রাতেই এক ব্যক্তি থানায় গিয়ে ছবি দেখে দাবি করেন, লাশটি তাঁর মেয়ে সাথী খাতুনের। তাঁর মেয়ে গত ১৪ জুলাই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। এ তথ্য জানার পর পুলিশ সাথী খাতুন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নামে। একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, সাথী ধূর্ততার আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি মারা যাননি। দাফন করা মৃতদেহটি অন্য কোনো নারীর।

যশোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ অপূর্ব হাসান কালের কণ্ঠকে জানান, ‘সাথী খাতুনকে পুলিশ যশোর সদরের ইছালী ইউনিয়নের জলকার গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়। ডোবা থেকে আমরা যখন লাশ পাই তখন তাঁর পরিচয় পাওয়া যায়নি। ফলে আঞ্জুমান মুফিদুল অজ্ঞাতপরিচয় লাশটি দাফন করে। পরে ছবি ও পরিধেয় জিনিস দেখে চৌগাছার নাইড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন দাবি করেন লাশটি তাঁর মেয়ে সাথীর।’

সূত্র জানায়, ২৯ আগস্ট দিবাগত রাত ২টায় যশোর সরকারি সিটি কলেজ মসজিদের পাশের একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে যশোর পুলিশ। দুই দিনেও পচাগলা ওই লাশের পরিচয় না মেলায় ৩০ আগস্ট আজুমান মুফিদুল দাফন সম্পন্ন করে। আর দাফনের পর ছবি ও পরিধেয় কাপড় দেখে ওই দিন রাতে চৌগাছার নাইড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন দাবি করেন লাশটি তাঁর মেয়ে সাথীর। এ ছাড়া চাঁদপাড়ার মোস্তফা সরদারও শনাক্ত করেন লাশটি তাঁর স্ত্রী সাথীর। শ্বশুর ও জামাইয়ের শনাক্ত মিলে যাওয়ায় ওই রাতেই পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে সাথী হত্যা ও গুমের মামলা দায়ের করে।  পুলিশ তদন্তও শুরু করে।

এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা সেকেন্ড অফিসার আমিরুজ্জামান জানান, সাথী খুব ধূর্ত। তাঁর বাবা ও স্বামী দুজনই দরিদ্র। এনজিওতে আসা-যাওয়া করার একপর্যায়ে তিনি রঙিন স্বপ্ন দেখতে থাকেন। প্রেমিক পাল্টাতে থাকেন। একটি পাসপোর্টের সূত্র ধরে তিনি জীবিত সাথী পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হন। তিনি জানান, সাথী হত্যাকাণ্ড তদন্ত করতে গিয়ে স্বামীর বাড়িতে সাথীর পাসপোর্ট পান। বাড়ির লোকজন জানায়, সাথী গত ১৫ মার্চ ভারতে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য এবং এক মাস ১৩ দিন পর দেশে ফিরেছিলেন। এরপর ১৪ জুলাই নিখোঁজ হন। পাসপোর্টের সূত্র ধরেই অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে আনা হয় ওই নারীকে।

উদ্ধার হওয়া সাথী দাবি করেন, তাঁর স্বামী তাঁকে মারপিট করত। তাই রাগ করে বাড়ি ছেড়েছিলেন। তাঁর পরিচিত মান্নু নামে এক ব্যক্তির বাড়ি জলকার গ্রামে তিনি আশ্রয় নেন। তিনি গতকাল ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও একই কথা জানিয়েছেন। অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরাম হোসেন তাঁকে পরিবারের জিম্মায় প্রদান করেছেন।

সাথীর বাবা আমজাদ হোসেন বলেন, আমি ছবি দেখে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেছিলাম। ছবিটি মেয়ের মতো লাগছিল। তাই পুলিশকে বলেছি দাফন করা লাশটি আমার মেয়ে সাথী খাতুনের। শনাক্ত করা আমার ভুল ছিল।

অন্যদিকে, যে নারীর লাশ উদ্ধার করে আঞ্জুমান মুফিদুল দাফন করে সে বিষয়ে পুলিশ অধিকতর তদন্ত করতে শুরু করেছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

 



মন্তব্য