kalerkantho


‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে’ সমর্থন ২০ দলের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের’ যে প্রক্রিয়া চলছে তাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। গতকাল রবিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানানো হয়।

বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়কারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, সভায় খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়াদি ছাড়াও ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’, নির্বাচন ও আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নজরুল বলেন, ‘আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগেও বলে গেছেন, গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের সব গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তির একটা বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আমরা সেই ঐক্য গড়ে তোলার কাজ করছি। আজ জোটের এই সভায় এটাই দৃঢ়তর করা হলো এই বলে— ২০ দল এই উদ্যোগকে শুধু সমর্থন করে না, তারা (২০ দল) এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টে রয়েছে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি); এই জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে রাজি হয়েছে কামাল হোসেনের গণফোরাম। কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সময় জোট নিয়ে আলোচনার খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

২০ দলীয় জোট ওই সব জোট ও দলের সঙ্গে ঐক্য গড়ার আলোচনায় রয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ ছাড়া বাম দলগুলো গড়ে তুলেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট; যার নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও এই জোটের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বিএনপি।

যদিও একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গড়তে কোন কোন দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তা প্রকাশ করেননি বিএনপি নেতারা।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বৈঠকে কারাবন্দি জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে খালেদা জিয়া মূল মামলায় জামিন পাওয়ার পরও নানা কৌশলে আটকে রাখা, কারাগারের অভ্যন্তরে আদালত স্থাপনের নিন্দা জানিয়ে ২০ দল বলেছে, জোট এটাকে সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক তৎপরতার প্রকাশ বলে মনে করে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জোটের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের এম এ রকীব, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ,  এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মুর্তজা, লেবার পার্টির দুই অংশের মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও এমদাদুল হক চৌধুরী, জাগপার তাসমিয়া প্রধান, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, মুসলিম লীগের এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডিএলের সাইফুদ্দিন মনি, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর দুই অংশের মাওলানা নুর হোসেন কাশেমী ও মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম উপস্থিত ছিলেন।

 

 



মন্তব্য