kalerkantho


শেকৃবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে থিসিস জালিয়াতির অভিযোগ

বাকৃবি প্রতিনিধি   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) তিন শিক্ষকসহ চারজনের বিরুদ্ধে থিসিস জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা হলেন শেকৃবির ফার্মাকোলজি অ্যান্ড টক্সোলজি বিভাগের শিক্ষক রূপালী আক্তার, পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. আফতাবুজ্জামান, একই বিভাগের শিক্ষক ও কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক বেগ এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আবদুল ওয়াদুদ সরকার।

অভিযোগটি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষক (বর্তমানে ইংল্যান্ডের নটিংহাম ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডিরত) পূর্বা ইসলাম ও সরকারি চাকুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সেলিম জাহান। তাঁদের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা বাকৃবির এক শিক্ষক ও এক সাবেক শিক্ষার্থীর আর্সেনিক বিষয়ের একটি থিসিস পেপার গোপনে নিজেদের নামে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জার্নালে প্রকাশ করেছেন। লিখিত অভিযোগটি পাঠানো হয়েছে শেকৃবি কর্তৃপক্ষ, বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি)।

অভিযোগের বিষয়ে পূর্বা ইসলাম বলেন, ‘কারো কারো পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে জার্নাল থেকে লেখা প্রত্যাহার ও আপসের কথা বলা হলেও আমি বলেছি যে এটা আইনত গুরুতর অপরাধ। আশা করি এই জালিয়াতির বিষয়ে উপাচার্যসহ স্যাররা কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।’

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘আর্সেনিক একিউমুলেশন অব এনিম্যাল ফিড (গাস অ্যান্ড ওয়াটার হায়সিনথ) ইন ফরিদপুর সদর উপজেলা [জে. শের-ই-বাংলা এগ্রিক. ইউনিভ. ৮(২), ৩১-৩৮ জুলাই ২০১৪] প্রবন্ধটি অবৈধ এবং অনৈতিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রবন্ধে উল্লিখিত গবেষণাকাজ আমি (পূর্বা ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক, ফার্মাকোলজি বিভাগ, ভেটেরিনারি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ) এবং তৎকালীন এমএস ছাত্র মো. সেলিম জাহানের (ভেটেরিনারি সার্জন, সাটুরিয়া, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, মানিকগঞ্জ, বাংলাদেশ) যৌথ গবেষণাকাজ। প্রবন্ধটি আমাদের প্রস্তুতকৃত বা প্রেরিত নয়। এমনকি আমরা এ ব্যাপারে অবগতও নই। প্রকাশের অনুমতিও প্রদান করিনি।’

অন্যদিকে অভিযুক্ত আনোয়ারুল হক বেগ বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। ২০১৪ সালে সাউরেসের ডিরেক্টর থাকার সময় রূপালী আক্তাররা আমার কাছে এলে থিসিসটি প্রকাশের জন্য দেখে দিই। তখন তারা বলে, আপনার নামটিও দিয়ে দিই, যেহেতু আপনিও একই সেক্টরের। থিসিস নকলের ব্যাপারে তখন কিছুই জানতাম না।’

অন্য শিক্ষকদের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষক রূপালী আক্তার জানান, তিনি এ বিষয়ে এখন কোনো কথা বলতে পারবেন না। এ বিষয়ে কমিটি হলে সেখানেই তিনি নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।



মন্তব্য