kalerkantho


নতুন রূপে ফিরছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল

রফিকুল ইসলাম   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নতুন রূপে ফিরছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল

প্রায় চার বছর পর নতুন নামে, নতুন রূপে চালু হচ্ছে হোটেল রূপসী বাংলা। নতুন নাম ইন্টারকন্টিনেন্টাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাঁচতারা রূপসী বাংলা হোটেল নতুন রূপে ফিরে আসছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল নামে। টানা চার বছর সংস্কারকাজ শেষে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে হোটেলটির উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর। সংস্কারকাজের জন্য হোটেলটি বন্ধ থাকলেও বিগত চার বছর প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ব্যয় অব্যাহত ছিল। ফলে এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান দিয়েছে ১৩২ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঁচতারা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সংস্কারকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। বর্তমানে সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। ভবনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফিটনেস যাচাইয়ের পর চলতি বছরেই এটি চালু হতে যাচ্ছে নতুন আঙ্গিকে। তবে চালুর দিনক্ষণ নির্ভর করছে হোটেল পরিচালনায় চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল গ্রুপস কর্তৃপক্ষের ওপর।

ইন্টারকন্টিনেন্টালের মালিক কম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেডের (বিডি সার্ভিস) দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ জানায়, সংস্কারকাজের আগে কম্পানিটি মুনাফায় ছিল। সংস্কারকাজের স্বার্থে হোটেলের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক ব্যয় অপরিবর্তিত থেকেছে। আর লোকবলের বেতন-ভাতা দিতে গিয়ে কম্পানিটি চার বছরে ১৩৩ কোটি টাকা লোকসানে পড়েছে। অবশ্য চালু হয়ে গেলে লোকসান কমে দ্রুতই কম্পানি মুনাফার ধারায় ফিরবে বলে আশা করছে তারা।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা জানায়, ১৯৮৪ সালে পাবলিক লিমিটেড কম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারের ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে তালিকাভুক্ত হয় বিডি সার্ভিস। ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার শেয়ারের মধ্যে ৯৯.৬৮ শতাংশ মালিকানা সরকারের। ০.১৯ শতাংশ শেয়ার বিদেশি আর ০.১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে।

কম্পানি সূত্র জানায়, ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি) ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জ পরিচালনা করছে বিডি সার্ভিস লিমিটেড। পাঁচতারা হোটেলটি ২০১৪ সালে উৎপাদনে থাকায় মুনাফায় ছিল কম্পানিটি। ওই সময় শেয়ার গ্রাহকদের ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয় কম্পানিটি। সংস্কার করতে গিয়ে লোকসানে পড়ায় এরপর থেকে আর কোনো লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আর লভ্যাংশ না দেওয়ায় আইন অনুযায়ী ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে কম্পানিটি। শেয়ার কেনাবেচাও হয় না। বর্তমানে কম্পানিটির শেয়ার মূল্য পাঁচ টাকা ২০ পয়সা। চালু হওয়ার পর মুনাফায় ফিরে লভ্যাংশ দিলে এই ক্যাটাগরি থেকে কম্পানির উত্তরণ ঘটবে।

সূত্র জানায়, ষাটের দশকের মাঝামাঝিতে দেশে প্রথম পাঁচতারা মর্যাদায় যাত্রা শুরু করে হোটেলটি। ২০১১ সাল পর্যন্ত হোটেলটি পরিচালনা করে স্টারউডের চেইন কম্পানি শেরাটন। শেরাটনের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে ২০১১ সালের মে থেকে ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত হোটেলটি পরিচালিত হয় ‘রূপসী বাংলা’ নামে।

জানা যায়, ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হোটেলটির মালিক কম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেড ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের (আইএইজি) সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধের পর ২০১৫ সালের মার্চে সংস্কারকাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৭ সালে। কিন্তু যথাসময়ে সংস্কার শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়, সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ব্যয়ও।

পুঁজিবাজার সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে তিন কোটি ২১ লাখ টাকা মুনাফা করে বিডি সার্ভিস। তবে সংস্কারকাজ করতে গিয়ে পরের বছরই অর্থাৎ ২০১৫ সালে কম্পানিটির লোকসান হয় ৩০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে লোকসান হয় ১৯ কোটি চার লাখ টাকা। ২০১৭ সালে লোকসান বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের প্রথম ৯ মাসে কম্পানিটির লোকসান ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে চার বছরে লোকসান দাঁড়ায় ১৩২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষ হলেও এখনো বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি কম্পানি। বছর শেষে এই লোকসান আরো বাড়বে বলে জানায় কম্পানি সংশ্লিষ্টরা।

কম্পানির হিসাব ও অর্থ বিভাগের প্রধান নিসার আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বিডি সার্ভিস বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জ পরিচালনা করছে। লোকসানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হোটেলটি বন্ধ থাকলেও লোকবল আগের মতোই রয়েছে। আর এই ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠান লোকসানে পড়েছে।

কম্পানির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর হোটেলটি উদ্বোধনের পর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল গ্রুপস কম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হবে। হোটেল ভবন ও অন্যান্য বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই চালুর সময় নির্ধারণ করা হবে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই এটি চালু হতে পারে।

 



মন্তব্য