kalerkantho


গানে গানে জাতীয় কবিকে স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গানে গানে জাতীয় কবিকে স্মরণ

নজরুলের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাহিত্যের মঞ্চে আচমকাই উঠে এলো তাঁর নাম। তিনি ঘোষণা করলেন, আমি চির উন্নত শির! ওই শির হিমালয় ছাড়িয়ে, খোদার আসন আরশ কাঁপিয়ে বিশ্ববিধাতার চিরবিস্ময় হয়ে উঠে গেল সবার ওপরে। ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়ে উচ্চারণ করলেন, ‘আমি মৃন্ময়, আমি চিন্ময়,/আমি অজর অমর অক্ষয়, আমি অব্যয়।’ এই ছিল তাঁর আত্মপরিচয়। অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন, গন্ধবিধূর ধূপ হয়ে জ্বলে উঠেছিলেন। তিনি প্রেম, সাম্য, মানবতা আর বিদ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। গত ১২ ভাদ্র ছিল এই মহান পুরুষের প্রয়াণবার্ষিকী। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার কবি স্মরণে আয়োজিত হয় বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান। জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল হলে গতকাল সন্ধ্যায় এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে নজরুলসংগীত শিল্পী সংস্থা।

অভিমান নিয়েই বুঝি জাতীয় কবি বলেছিলেন, ‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে...।’ বাঙালি জাতি ভোলেনি জাতীয় কবিকে। আয়োজনের শিরোনামও ছিল ‘আমারে দেব না ভুলিতে’!

একগুচ্ছ নজরুলসংগীতের আশ্রয়ে সাজানো ছিল সংগীতাসরটি। পরিবেশনা শুরুর আগে স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল। বাঙালির যাপিত জীবনে কবির গুরুত্ব তুলে ধরে এই শিল্পী বলেন, ‘শুধু তাঁর গান গেয়ে নয়, জীবন ও দর্শনের মাধ্যমে উপলব্ধি করতে হবে কাজী নজরুলকে। একজন মানবিক মানুষ হিসেবে তিনি জীবনভর ভালোবাসার কথা বলেছেন। আর সুন্দর সমাজ গড়তে হলে মানুষকে ভালোবাসার বিকল্প নেই। এ কারণেই যেকোনো সংকটে প্রেরণার উৎস নজরুল। তিনি আমাদের দিয়ে গেছেন শিকড়ের সন্ধান। তাই আমরা যতটাই ডিজিটাল হই না কেন, আপন অস্তিত্বকে খুঁজে পেতে হলে যেতে হবে শিকড়ের পানে।’

সম্মেলক সুরের আম্রয়ে সূচনা হয় এই সংগীতাসরের। পেছনে নজরুলের প্রতিকৃতিকে রেখে দলবেঁধে মঞ্চে আসেন শিল্পীরা। অনেকটি কণ্ঠ মিলে যায় এক সুরে। গীত হয় ‘মৃত্যু নাই নাই দুঃখ, আছে শুধু প্রাণ’ শিরোনামের  নজরুলসংগীত। এরপর একক কণ্ঠের পরিবেশনায় এগিয়ে যায় অনুষ্ঠান। প্রমিতা দে গেয়ে শোনান ‘কেন কাঁদে পরান’। করিম হাসান খান কণ্ঠে তুলে নেন ‘কেন ফোটে কেন কুসুম ঝরে যায়’ শীর্ষক সংগীত। জোসেফ কমল রড্রিক্সের কণ্ঠে গীত হয় ‘আমি আছি বলে দুখ পাও তুমি’। খায়রুল আনাম শাকিল পরিবেশন করেন ‘তুমি যতই দহনা দুখের অনলে’। এ ছাড়া একক সংগীত পরিবেশন করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইয়াকুব আলী খান, সেলিনা হোসেন, মঈদুল ইসলাম, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সী, রেজাউল করিম, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, মুশতারী হোসেন পান্না প্রমুখ। সম্মেলক সুরের আশ্রয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান। পরিবেশিত হয় ‘শুভ্র সমুজ্জ্বল হে চির-নিমর্ল’ শিরোনামের গান।



মন্তব্য