kalerkantho


কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদন

আর্থিক সহায়তা পেলেন নির্যাতিত সেই গৃহকর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক ও আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আর্থিক সহায়তা পেলেন নির্যাতিত সেই গৃহকর্মী

গৃহকর্মী হিসেবে ঢাকায় কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার মোছাম্মৎ বেগমকে (২০) ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রমিক কল্যাণ তহবিল। গতকাল শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসান ও জেলা প্রশাসক ড. সুভাস চন্দ্র বিশ্বাস ওই সহায়তা ভুক্তভোগীর হাতে তুলে দেন।

মোছাম্মৎ বেগমের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাওলের চর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো. সামছুদ্দিন। অভাবের তাড়নায় ঢাকায় যান গৃহকর্মী হিসেবে। সেখানে গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনের শিকার হয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরে। দুই মাসের মাথায় ফিরে আসেন বাড়িতে। পরে স্বজনরা তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ নিয়ে গত ২১ আগস্ট কালের কণ্ঠে ‘ঢাকায় বাসায় গৃহকর্মী নির্যাতন, ক্ষতস্থানে গরম পানি ঢালতেন গৃহকর্ত্রী’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

এরপর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. সামছুজ্জামান ভুইয়া এগিয়ে আসেন। তাঁর নির্দেশে ওই গৃহকর্মীর বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠায় ময়মনসিংহ কার্যালয়। পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়।

গতকাল ওই টাকা পেয়ে বেগমের চোখে মুখে বাঁচার আশা ফুটে ওঠে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অহন মনে অয় আমি বাঁচতাম পারবাম। আর বিনা চিকিৎসায় মরতে অইতো না।’

আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার, ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রউফ, কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক নিয়ামুল কবির সজল, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মো. বুলবুল আহম্মেদ প্রমুখ।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসান বলেন, ‘সরকার সকল নাগরিকদের অধিকার আদায় নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সাথে সরকার ছিল, থাকবে। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আজকের এই অর্থসাহায্য।’ তিনি ভুক্তভোগীকে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আট মাস আগে বেগমকে তাঁর স্বামী পরিত্যাগ করে। পরে তিনি রুটি-রুজির সন্ধানে ঢাকায় চলে যান। মানিকনগর মহল্লার আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তির বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজে যোগ দেন তিনি। এ অবস্থায় কোরবানির ইদের ছুটি চান। কিন্তু গৃহকর্ত্রী শিল্পি বেগম নিজেরা গ্রামের বাড়ি যাবেন—এ জন্য তাঁকে (গৃহকর্মী) বাড়ি যেতে নিষেধ করেন। এর মধ্যে নানা ছুতোয় কাজে মনোযোগ নেই অভিযোগ এনে খুন্তি গরম করে ছেঁকা দিতেন। এই অবস্থা ছিল দফায় দফায়। একপর্যায়ে শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি হলে সেই ক্ষতেই গরম পানি ঢালায় বিনা চিকিৎসায় শরীরে পচন ধরে যায়। অসহ্য যন্ত্রণায় চিৎকার করলে শাস্তিস্বরূপ ফের নির্যাতন চালানো হতো। গত ১৮ আগস্ট বেগম অচেতন হয়ে পড়লে এবং কোনোমতে জ্ঞান ফিরে এলে ওই দিন বিকেলে তাঁকে একটি বাসে করে ময়মনসিংহে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ছয়জনকে অভিযুক্ত করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। তবে গৃহকর্তা আবুল কালাম ও তাঁর স্ত্রী শিল্পি বেগমকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ।

 

 



মন্তব্য