kalerkantho


অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে মেঘনায় ভাঙন, বিক্ষোভ

প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রতিদিন সাত-আট লাখ টাকার বালু তুলে বিক্রি করছে

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নুনেরটেক এলাকায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে দেদার বালু উত্তোলনের ফলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ৭০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ অবস্থায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে বসতবাড়ি রক্ষার দাবিতে গতকাল শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মিয়া, একই ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য আবদুর রহমান, চেয়ারম্যানের ছেলে রাজিব মিয়া, আল-আমিন, ভাতিজা জাহাঙ্গীর হোসেন, ফারুক, ভাগ্নে মনা, মানিক ও সাত্তার, জয়নাল, ডালিম, সোনারগাঁর নুনেরটেক গ্রামের আবুল হাসেম এবং আড়াইহাজার উপজেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের দুই শতাধিক নেতাকর্মীর সমন্বয়ে গড়া একটি সিন্ডিকেট এই বালু উত্তোলনের কাজে সরাসরি জড়িত। তারা মায়াদ্বীপ, নুনেরটেক, চুয়াডাঙ্গা, রগুনারচর, গুচ্ছগ্রামসহ আশপাশের গ্রামের পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের কবলে পড়ে গ্রামগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ওই এলাকার শত শত কৃষকের প্রায় ৪০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী গতকাল বসতবাড়ি ও জমি রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ করে।

গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানায়, বালু সিন্ডিকেট উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরবর্তী নুনেরটেক ও আশপাশ এলাকা থেকে ইজারা ছাড়াই অবৈধভাবে ২৫-৩০টি ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন সাত-আট লাখ টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে থাকে। অবৈধ বালুর টাকা স্থানীয় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ার হচ্ছে। মেঘনা নদী থেকে এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে রহিম আলী, রমজান মিয়া, তোতা মিয়া, লতিফ মিয়া, রশিদ মিয়া, দুদু মিয়া, সোনা মিয়া, আমির আলী, রমু মিয়া, শামসুদ্দিন, আলমাছ মিয়া, শামসুল হকসহ ২০ জনের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রগুনাথপুর, গুচ্ছগ্রাম, সবুজবাগ ও আশপাশ এলাকার শতাধিক পরিবার এবং আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ১০টি মসজিদ মেঘনার ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে ভাঙন রোধ হবে না।

সরেজমিনে গতকাল নুনেরটেক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের পাশ ঘেঁষে ও ফসলি জমি থেকে ২৫-৩০টি ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। আর বালু সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে এক প্রকার প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে।

কথা হলো গুচ্ছগ্রামের কৃষক আজগর আলী ও হারুন মিয়ার সঙ্গে। তাঁরা জানান, ওই এলাকায় দুই হাজার বিঘা আবাদি জমি ছিল। বালু সন্ত্রাসীরা এরই মধ্যে এক হাজার বিঘা জমির মাটি লুট করে নিয়ে গেছে। বাকি জমি থেকেও মাটি কেটে নিচ্ছে বালু সন্ত্রাসীরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান, তাঁরা ইজারা নিয়েই বালু উত্তোলন করছেন। কৃষকদের জমির মাটি কাটার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা নেই।

 

 



মন্তব্য