kalerkantho


বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে সম্মেলন

সীমান্তে অপরাধ ঠেকাতে ঐকমত্য

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সীমান্ত এলাকায় অপরাধ মোকাবেলায় বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণে একমত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ে সম্মেলন শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল  মো. সাফিনুল ইসলাম ও বিএসএফ মহাপরিচালক কে কে শর্মা এ কথা জানান।

সীমান্তে হতাহতের সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে উল্লেখ করে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘সীমান্তে হত্যা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ আছে। আর এটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গবাদি পশু চোরাকারবারিদের সঙ্গে হচ্ছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে উভয় বাহিনী এ ব্যাপারে একসঙ্গে কাজ করছে।’

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘গবাদি পশু চোরাচালান কমে এসেছে। এর বেশ কিছু কারণ রয়েছে। বিএসএফ সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও গবাদি পশুর খামার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ায় ভারতীয় গরুর চাহিদা কমেছে।’

অন্যতিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মহাপরিচালক কে কে শর্মা বলেন, ‘এ বছর সীমান্তে কোনো হত্যার ঘটনা ঘটেনি। তবে তাঁরা এ বছরই এক হাজার ৫২২ জন বাংলাদেশিকে অবৈধ অভিবাসনের দায়ে আটক করেছেন। এর পরপরই তাদের স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ওই অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে ১৬৬ জন মানবপাচারের শিকার।

বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দুই দেশের বিদ্যমান আইনগুলো প্রয়োগ করে হতাহতের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা যায়। বিএসএফ সীমান্তে প্রাণঘাতী নয়, এমন অস্ত্র ব্যবহার করছে। শুধু হামলার ক্ষেত্রে হতাহত হওয়া এড়াতে সশস্ত্র অপরাধীদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ কখনো তার ভূখণ্ড ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে দেবে না। সীমান্তে অপরাধ মোকাবেলায় বিজিবি বিএসএফকে সহযোগিতা করে যাবে। বিএসএফ মহাপরিচালকও এ ক্ষেত্রে বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করেন।

দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত পাড়ি দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার এবং না জেনে-বুঝে সীমান্ত পাড়ি দেওয়া ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়েও সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া সীমান্তে মানবপাচার রোধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার এবং পাচারের শিকার হওয়ার পর উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো ও পুনর্বাসনেও তাঁরা সম্মত হয়েছেন। যশোর সীমান্তকে অপরাধমুক্ত করার উদ্যোগ সফল হওয়ায় বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালকের প্রশংসা করেন। তাঁরা অন্যান্য সীমান্তেও এমন উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

 



মন্তব্য