kalerkantho


আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস কাল

দেশে এখন সাক্ষরতার হার ৭২.৯ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, দেশে এখন সাক্ষরতার হার ৭২.৯ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭২.৩ শতাংশ। গত এক বছরে দেশে সাক্ষরতার হার বেড়েছে ০.৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পরিসংখ্যান ব্যুরোর এই তথ্য তুলে ধরেন।

আগামীকাল শনিবার আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সাক্ষরতা অর্জন করি, দক্ষ হয়ে জীবন গড়ি’। ১৯৬৬ সালের ২৬ অক্টোবর জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেসকো) ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। ব্যক্তি, সম্প্রদায় ও সমাজের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্বকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দিতে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাক্ষরতার কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে দিবসটির প্রচলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাক্ষরতা দিবস পালন উপলক্ষে আগামীকাল সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় সারা দেশব্যাপী নানা আয়োজনের উদ্বোধন করা হবে। এবার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাক্ষরতা দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যমান তিন কোটি ২৫ লাখ নিরক্ষর ব্যক্তিকে সাক্ষরতা প্রদানের মাধ্যমে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করা হবে। বিদ্যালয়বহির্ভূত আট থেকে ১৪ বছর বয়সী ১০ লাখ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হবে। ৫০ লাখ নব্য সাক্ষরকে দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। প্রতিটি জেলায় একটি করে জীবিকায়ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে সার্বিক সাক্ষরতা আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা জ্ঞান দেওয়া হয়েছে। এ অর্জনের জন্য সরকার আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কার ১৯৯৮ লাভ করে।

আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছিল ২০১৪ সালের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করবে। দলটি টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতা পার করতে চললেও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়নি। এর কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, মৌলক সাক্ষরতা প্রকল্পটি মাঝখানে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দাতা সংস্থার বরাদ্দ বন্ধ ছিল। সরকার জিওবি থেকে বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়াই প্রকল্প নিয়ে সাক্ষরতার হার বাড়িয়েছি। আমাদের লক্ষ্য যতক্ষণ একজন নিরক্ষর মানুষ থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত সরকার এটা চালিয়ে যাবে।’

প্রাথমিক শিক্ষার স্তর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা বাস্তবায়ন করা যায়নি, প্রক্রিয়া চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অধীনে থাকা বিদ্যালয় থেকে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিগুলো ছেড়ে দিলে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য নিরসনের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তাঁদের দাবি প্রত্যাখ্যাতও হয়নি। বিষয়টি যুক্তিযুক্তভাবে আলোচনা করা হচ্ছে। সরকারের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা চলতে থাকবে বলে জানান গণশিক্ষামন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আসিফ-উজ-জামান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক তপন কুমার ঘোষ ছাড়াও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য