kalerkantho


বখাটে সন্ত্রাসী অনিক গ্রেপ্তারে রমনায় স্বস্তি

মাদক কারবারি পাপ্পুর সহযোগী
মেয়েদের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বখাটে সন্ত্রাসী অনিক গ্রেপ্তারে রমনায় স্বস্তি

রাজধানীর রমনা এলাকার বড় মগবাজারে অনিক নামের এক বখাটে সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অনিক এলাকায় মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি, বখাটে আড্ডা এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করে যাচ্ছিল। কিশোরী শিক্ষার্থীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলারও সাহস পাচ্ছিল না। তবে কয়েক দিন ধরে এলাকায় খবর ছড়িয়েছে, মাদক কারবারের কারণে অনিককে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সে এখন জেলহাজতে। তবে কোন বিভাগ তাকে গ্রেপ্তার করে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সম্প্রতি এক অভিভাবক কালের কণ্ঠ’র কাছে অভিযোগ করেন, তাঁর একাদশ শ্রেণিতে পড়া মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার লুট করে অনিক। এ ঘটনার পর অনিকের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ভয়ে আঁতকে ওঠেন তাঁরা। অনিক একইভাবে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অনেক মেয়ের সর্বনাশ করেছে। সে মোটরসাইকেল নিয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে সে। রমনা থানার এক এসআইয়ের মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে তাকে থানায় আটকে রাখা হয়। আরেক মেয়ের কাছ থেকে টাকা ও গয়না হাতিয়ে নিলে অভিভাবকরা অনিকের বাড়িতে চড়াও হন। পালিয়ে থেকে সে যাত্রায় রক্ষা পায় সে।

ওই অভিভাবকের অভিযোগের সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বড় মগবাজারের পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডের কুনজে মাহতাব নামের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় আত্মীয়ের বাসায় থাকে অনিক। রনি নামের এক ডিশ ব্যবসায়ীর মামাতো ভাই বলে সবাই চেনে তাকে। ইয়াবার কারবারি হিসেবেও তার কুখ্যাতি রয়েছে। একজন নিকটতম প্রতিবেশী বলেন, “কখনো শুনেছি অনিকের বাড়ি চাঁদপুরে, আবার কখনো শুনেছি কুমিল্লায়। সে একসময় বলে তার বাবা সচিব, আবার বলে পুলিশের এসপি। এমন পরিচয়ে জালিয়াতি, প্রতারণা করে থাকে সে। পরে জানা গেছে, তার বাবা দারোয়ানের কাজ করেন। অনিক সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। সে ফেসবুকে আইডি করেছে ‘জমিদারের নাতি’ নামে। এতেই বোঝা যায় সে কী ধরনের ছেলে।”

মহল্লার দুজন দোকানদার বলেন, অনিক স্থানীয় মাদক কারবারি পাপ্পুর প্রধান সহযোগী। র‌্যাবের অভিযানের কারণে পাপ্পু ওই এলাকা থেকে চলে যায়। পুলিশের ভয়ে অনিকও রমনা মসজিদের পাশে ছাপরা বস্তিতে আশ্রয় নেয়। এখানে থেকেও ইয়াবা বিক্রি ও বখাটেপনা চালিয়ে যায় সে। এলাকায় বাকি খেয়ে টাকা না দেওয়া, চাঁদাবাজির অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসী অনিকের দাপটে তার ফুফু (যে বাড়িতে অনিক আশ্রিতের মতো থাকে) বাসাভাড়া না দিয়েও বছরের পর বছর জোর করে থাকছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, গত ঈদুল আজহার পর থেকে এলাকায় শোনা যাচ্ছে, অনিক গ্রেপ্তার হয়েছে। গত বুধবার ডিবির এক সদস্য স্থানীয়দের নিশ্চিত করেন, অনিককে মাদকের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে এখন জেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুনজে মাহতাব নামের ভবনটির মালিক মারা গেছেন। তিনি ‘আব্দুল্লাহ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’ নামে ওয়াকফ এস্টেটের অধীনে বাড়িটি দিয়ে যান। এ কারণে ট্রাস্টের মাধ্যমে ভাড়ার টাকার অংশ পেয়ে থাকেন সন্তানরা। টিপু নামের এক ছেলে বাড়িটি দেখাশোনা করেন। তাঁকে ভয় দেখিয়ে জোর সেখানে থাকে অনিক।

জানতে চাইলে মালিকের আরেক ছেলে জন্টু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। কিন্তু ভয়ে ওদের বাড়ি থেকে নামানো যায়নি। আমরা অচিরেই আইনের আশ্রয় নেব।’

এদিকে কয়েকজন অভিভাবক জানান, অনিক গ্রেপ্তারের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। সহযোগীদের নিয়ে গোটা এলাকায় ইয়াবার কারবার ও বখাটে আড্ডার কারণে সবাই আতঙ্কে ছিল। উঠতি সন্ত্রাসী

অনিক যেন আইনের ফাঁক গলে বের না হতে পারে সে দাবিও জানায় তারা।



মন্তব্য