kalerkantho


গোপালগঞ্জে হয়ে গেল কবিগানের জম্পেশ আসর

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গোপালগঞ্জে হয়ে গেল কবিগানের জম্পেশ আসর

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী কবিগানের জম্পেশ আসর হয়ে গেল গোপালগঞ্জে। উপমহাদেশের প্রখ্যাত কবিয়াল ও বাংলাদেশ কবি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনি শংকর সরকার এবং সঞ্জয় সরকার এতে অংশ নিয়েছেন। বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই আসরে গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলা থেকে অসংখ্য শ্রোতা আসেন কবিগান শুনতে। শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৮৮তম আবির্ভাব দিবস পালন উপলক্ষে গোপালগঞ্জ লোকনাথ সেবক সংঘ কেন্দ্রীয় কালীবাড়িতে এই আয়োজন করে।

কেন্দ্রীয় সর্বজনীন কালীবাড়ির ময়দানে নির্মিত মঞ্চে কবিগানের জমজমাট এই আসরে বুধবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দুই কবিয়াল বাগিবতণ্ডা আর তর্ক-বিতর্কের যুদ্ধে লিপ্ত হন। শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে রাত জেগে তাঁদের মুনশিয়ানা উপভোগ করে।

কবিগানের এমন দৃশ্য বর্তমান সময়ে এসে গ্রাম-বাংলা থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। কালের আবর্তে এবং আধুনিকতার ধাক্কায় এসব গানের শ্রোতা একদিকে যেমন কমে গেছে, তেমনি গায়কও কমে গেছে। তার পরও শেকড় সন্ধানী কিছু মানুষ আজও এ কবিগানকে খুঁজে বেড়ায় মনের অজান্তে। যেখানে এই গানের আসর বসার খবর পায়, ছুটে যায় সেখানে। একসময় এই অঞ্চলের শ্রোতারা কবি বিজয় সরকারের গান শুনত মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে। সে সময় গ্রাম-বাংলায় বিনোদনের একটি বড় মাধ্যম ছিল কবি, জারি-সারি গান। তার মধ্যে কবিগান ছিল অন্যতম। 

কথা হলো গান শুনতে আশা ভজন সাহা, বিধান চন্দ্র আঢ্য, গোবিন্দ চন্দ্র দাস, অসীম রায়, সমীর রায়, রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, অনন্যা ভক্ত, প্রত্যাশা মণ্ডল, শিপ্রা বিশ্বাস, নির্ম্মলা মণ্ডল, অনুপম ভক্ত, বিনয় বিকাশ মজুমদার, পপি মণ্ডল, মিঠুন বালাসহ বেশ কয়েকজন শ্রোতার সঙ্গে। তাঁরা বলেন, কবিগান শুনলে সমাজের ভালো-মন্দ জানা ও শেখা যায়। ধর্মীয় শিক্ষা পাওয়া যায়। অনেক আগে বেশি করে কবিগান হতো। এখন আর তেমন একটা আসর বসে না। তবে খবর পেলে কবিগান শুনতে দূর-দূরান্তেও চলে যাই।

মনিশংকর সরকার বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরবঙ্গ ও ভাটি অঞ্চলে কবিগান আজও বেশ শেকড় গেড়ে আছে। কবিগানে বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস ও ধর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়। এখানে কোনো বিষয়ের ভালো-মন্দ দুটি দিক তুলে ধরা হয়। কারণ শুধু ভালো বললে মানুষ সেটা গ্রহণ নাও করতে পারে। এ জন্য মন্দ দিকটা বলে মানুষকে ভালোর দিকটি বোঝানো হয়। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ঐতিহ্যবাহী এই আনন্দ মাধ্যম টিকে থাকতে পারবে।

জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক লিটন সাহা (মনা) বলেন, বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন ধরে রাখতে এই কবিগানের আয়োজন। আগামী দিনেও এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিগুলো পালনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশের বিভিন্ন সংগঠন কবিগান নিয়ে উদ্যোগ নিলে আজকের প্রজন্মকে এই সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া সম্ভব হবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কিশোর কৃষ্ণ চন্দ বলেন, শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রম্মচারী ছিলেন দলিত নিপীড়িত মানুষের আশ্রয়। তাঁর আবির্ভাব দিবসে তাই গ্রাম-বাংলার লোক-সংস্কৃতি কবিগানের আয়োজন করা হয়েছে।

 

 



মন্তব্য