kalerkantho


প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা, প্রতিবাদে

৪ দিনের কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সরকারীকরণের দাবিতে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি পুলিশের বাধায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সমিতির সভাপতি মামুনুর রশিদ খোকন।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর ৬৪ জেলায় মানববন্ধন, ১৫ সেপ্টেম্বর আট বিভাগে মানববন্ধন, ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি মিজানুর রহমান, ফিরোজ উদ্দিন, সহসভাপতি শাহনাজ পারভিন, ধরনি মোহন রায়, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সুমন কুমার, সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক পরেশ চন্দ্র রায় প্রমুখ।

এর আগে গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষকরা পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অবস্থান কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেন। এ সময় শিক্ষকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সেখান থেকে পাঁচ শিক্ষককে আটক করে পুলিশ। আটককৃত শিক্ষকরা হলেন আনোয়ার, বদরুল আমিন, নিগার সুলতানা, লিলা রানী দাস ও শেখ শিখা। আটককৃত শিক্ষকদের শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

সরকার ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারীকরণ করে। শিক্ষকদের অভিযোগ, সে সময়ে বেসরকারি বিদ্যালয়ের সংখ্যা যথাযথভাবে পরিসংখ্যান করা হয়নি। ফলে সারা দেশের চার হাজার ১৫৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।

সরকারীকরণের দাবিতে তৃতীয় ধাপেও বাদ পড়া এই বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা গত ২১ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রথমে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। পরে ২৬ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচিও শুরু করেছিলেন তাঁরা। পরে তিনজন সচিবের আশ্বাসে ৭ ফেব্রুয়ারি অনশন কর্মসূচি স্থগিত করে বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার বাদপড়া চার হাজার ১৫৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণের দাবির বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে।

 

 

 



মন্তব্য