kalerkantho


চট্টগ্রামে চলন্ত বাস থেকে যাত্রী ফেলে হত্যা

ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার মানিকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চট্টগ্রামে চলন্ত বাস থেকে যাত্রী রেজাউল করিমকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার দায় স্বীকার করেছেন মানিক সরকার। পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে রিমান্ডে থাকা মানিক সরকার বলেছেন, তর্কের একপর্যায়ে তিনি এবং নিয়মিত চালক দিদার মিলে রেজাউলকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। ওই বাসেরই পেছনের চাকায় পিষ্ট হন রেজাউল।

পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার রিমান্ডে মানিক সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আদালতে মানিক সরকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন বলে পিবিআই কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।

গত ২৭ আগস্ট সকালে নগরীর আকবর শাহ থানার গ্ল্যাক্সো কারখানা এলাকায় চলন্ত বাস থেকে রেজাউল করিমকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয়। এ নিয়ে আকবর শাহ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত রেজাউল করিমের মামা আহমেদুর রহমান। গত ১ সেপ্টেম্বর ভোরে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বাসের সুপারভাইজর মানিক সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে রিমান্ড আবেদন করতে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আল ইমরান খান আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আজ তিন দিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে।

রিমান্ডে মানিক সরকার জানিয়েছেন, ২৭ আগস্ট সকালে ৪ নম্বর রুটের বাসটি নিয়ে ভাটিয়ারী থেকে নিউ মার্কেট যাচ্ছিলেন তাঁরা। ওই দিন বাসের নিয়মিত চালক দিদার হাতের ব্যথার কারণে গাড়ি চালাচ্ছিলেন না। তিনি যাত্রীর আসনে বসে ছিলেন। গাড়ি চালাচ্ছিলেন বদলি চালক ছাদেকুল ইসলাম।

মানিক সরকার জানান, তাঁদের লুসাই পরিবহনের বাসের পেছনে একই রুটের তাজিল পরিবহন নামের আরেকটি বাস ছিল। লুসাই পরিবহন-তাজিল পরিবহনের দুই চালক বাস নিয়ে ওভারটেক প্রতিযোগিতা শুরু করেন। কিন্তু পেছনে থাকা তাজিল পরিবহনের বাসকে কোনোভাবেই ওভারটেক করে সামনে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছিলেন না লুসাই পরিবহনের বদলি চালক ছাদেকুল। একপর্যায়ে কালু শাহ মাজার এলাকায় পৌঁছলে পেছনে থাকা তালিজ পরিবহন সামনে থাকা লুসাই পরিবহনকে ওভারটেক করে এমনভাবে গাড়ি পার্কিং করে, যাতে লুসাই পরিবহন আর সামনে যেতে না পারে। এ সময় তাজিল পরিবহন থেকে দুজন যাত্রী লুসাই পরিবহনে এসে ওঠেন। তাঁদের একজন রেজাউল করিম। লুসাই পরিবহনে উঠেই তাঁরা কেন বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো হচ্ছে জানতে চান ছালেকুলের কাছে। এ নিয়ে যাত্রী-চালকের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। তর্কের একপর্যায়ে রেজাউল চালক ছাদেকুলকে চড় মারেন। তখন যাত্রীর আসনে বসে থাকা বাসের নিয়মিত চালক দিদারও তর্ক শুরু করেন। ওদিকে তাজিল পরিবহনের বাসটি চলে যায়। যাত্রী  রেজাউল ও বাসচালক দিদারের তর্কের মধ্যে এসে যোগ দেন সুপারভাইজর মানিক সরকার। ত্রিমুখী তর্কের একপর্যায়ে রেজাউলকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন দিদার ও মানিক। মুহূর্তেই রেজাউল ওই বাসের পেছনের চাকায় পিষ্ট হন।

 



মন্তব্য