kalerkantho


চালু হয়ে গেছে ডিজিটাল সিম নিবন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মোবাইল ফোনের গ্রাহক হতে এখন থেকে আর ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপির প্রয়োজন হবে না। গ্রাহককে কোনো আবেদনপত্রও (এসএএফ) পূরণ করতে হবে না। সিম বিক্রেতাকে নাম, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান ঠিকানা জানিয়ে আঙুলের ছাপ দিলেই হবে। কাগজবিহীন বা ডিজিটাল নিবন্ধনের এই প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গত ২৮ আগস্ট মোবাইল ফোন  অপারেটরদের কাছে পাঠানো এক নির্দেশনায় জানিয়ে দেয়, সুষ্ঠুভাবে গ্রাহক-পরিচয় নিবন্ধনের জন্য কাগজের ফরমের বদলে সার্চ করার সুবিধাযুক্ত ইলেকট্রনিক টেলিকম সাবস্ক্রাইবার অ্যাকুজিশন ফরমে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই প্রক্রিয়া কাজ শুরুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। মোবাইল অপারেটররাও এই পদ্ধতিকে স্বাগত জানিয়ে বলছে, দেশে ডিজিটাইজেশনের ক্ষেত্রে এটি এক বিরাট অগ্রগতি। এই প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা আরো জোরদার হবে। এটি দৃষ্টান্তমূলক পরিবেশবান্ধব উদ্যোগও বটে।

গ্রামীণফোন গতকাল মঙ্গলবার গুলশানের জিপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাটি গণমাধ্যমে তুলে ধরে। বিটিআরসির মহাপরিচালক (সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহরিয়ার আহমেদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। গ্রামীণফোনের ডেপুটি সিইও এবং সিএমও ইয়াসির আজমান, সিসিএও মাহমুদ হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।  

ইয়াসির আজমান বলেন, ‘এই উদ্যোগ একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের গ্রাহকদের জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ ইকো সিস্টেম ডিজিটাইজেশনকে আরো এগিয়ে নেবে। দীর্ঘ মেয়াদে পরিবেশ সংরক্ষণেও এটি ইতিবাচক অবদান রাখবে।’

গ্রামীণফোন জানায়, প্রাথমিকভাবে ই-নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুধু নতুন সিম বিক্রির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। ধীরে ধীরে এই প্রক্রিয়া মালিকানা হস্তান্তরসহ (গ্রাহক ও করপোরেট) দ্বৈত দাবি, মৃত্যুর মামলা নিষ্পত্তি, এমএনপি, ঠিকানা পরিবর্তন প্রভৃতি ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। 

পুরো প্রক্রিয়াটি গ্রাহক সম্পন্ন করতে পারবে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে। তবে নতুন সংযোগের দাম কিংবা প্রাসঙ্গিক সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হবে। কোনো বায়োমেট্রিক তথ্য যেমন জন্মতারিখ বা আঙুলের ছাপ, এনআইডি বা স্মার্ট কার্ডের সঙ্গে না মিললে সিম সক্রিয় হবে না, নিবন্ধিতও হবে না।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের হেড অব করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের গ্রাহক সেবাকেন্দ্রগুলোতে গত মে মাস থেকেই আমরা এই পদ্ধতি চালু করেছি। বর্তমানে আমাদের রিটেইলাররাও এ পদ্ধতি ব্যবহার করছে।’

বাংলালিংক জানায়, তারা এরই মধ্যে সারা দেশে কাগজবিহীন সিম নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক অস বলেন, ‘সরকারের ইলেকট্রনিক ও কাগজবিহীন সিম রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগকে বাংলালিংক স্বাগত জানায়। এই উদ্যোগ মোবাইল গ্রাহকদের রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা আরো সহজ করবে। গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আর রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে কাগজের ব্যবহার না থাকায় সরকারের এই উদ্যোগ দৃষ্টান্তমূলক পরিবেশবান্ধবও বটে। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের ডিজিটাইজেশনের ক্ষেত্রে এটি এক বিরাট অগ্রগতি।’

 



মন্তব্য