kalerkantho


‘অপচিকিৎসা’য় শিশুর মৃত্যু

শেবাচিমের চিকিৎসকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে নালিশি মামলা

বরিশাল অফিস   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে শিশু বিভাগের প্রধানসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা করা হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করা হয়। অভিযোগটি দাখিল করেছেন নিহত শিশু ইসরাতের বাবা বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পূর্ব ধামুরা এলাকার বাসিন্দা আল আমিন জমাদ্দার। বিচারক মারুফ আহমেদ অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অভিযুক্তরা হলেন শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. অসীম কুমার সাহা, শিশু বিভাগের ইউনিট-২-এর আওতাধীন ডায়রিয়া ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার, ওই সময় দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক, ইউনিটের সেবিকা, শিশু বিভাগের ইউনিট-৩-এর রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রারসহ অজ্ঞাতপরিচয় ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

আদালতে দাখিল করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে বাদীর তিন বছর বয়সী শিশুকন্যা ইসরাত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে শিশু বিভাগের ডায়রিয়া ইউনিট ২-এ পাঠায়।

ওই ইউনিটে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক বাদী আল আমিন জমাদারকে স্লিপ লিখে স্যালাইন ও ওষুধ আনতে দেন। ওই স্লিপ পাঁচ নম্বর আসামি সেবিকা সিপু বেগম বাদীর কাছ থেকে নিয়ে যান এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ বাদ দিয়ে নতুন ওষুধ লেখাসংবলিত আরেকটি স্লিপ দিয়ে সেগুলো আনতে বলেন। সেবিকা সিপুর দেওয়া ওষুধ ইসরাতের শরীরে প্রয়োগ করা হলে সে জ্ঞান হারায়।

পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে শিশু ওয়ার্ডের ইউনিট-৩-এ পাঠানো হয়। ওই ইউনিটের চিকিৎসক শিশুটির অবস্থা খারাপ হলেও কোনো চিকিৎসা দেননি। আসামিদের ভুল চিকিৎসা ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে ২৫ আগস্ট রাত সোয়া ২টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়। বাদী আল আমিন জমাদার ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণ জানতে চাইলে আসামিরা তাঁকে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. অসীম কুমার সাহার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন বলেন, ‘শিশু বিভাগের প্রধানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে শুনেছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য