kalerkantho


হাসপাতালে বিলের চাপ

আইসিইউতে নবজাতক রেখে পালিয়েছেন মা-বাবা

আবুল কাশেম হৃদয়, কুমিল্লা   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



অতিরিক্ত বিলের চাপে কুমিল্লা নগরীর একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নবজাতক সন্তানকে রেখে পালিয়ে গেছেন মা-বাবা। বিষয়টি নিয়ে বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দুই লক্ষাধিক টাকা বিল আদায় তো দূরে কথা, ফেলে যাওয়া শিশুটির রক্ষণাবেক্ষণে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর জেলা সিভিল সার্জন আশ্বাস দিয়েছেন, বাচ্চাটির চিকিৎসার ব্যয়ভার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বহন করা হবে। তবে চিকিৎসাসেবায় জড়িতদের আরো মানবিক হওয়ার আহ্বান তাঁর।

গত ১৮ আগস্ট অপরিণত ও অপেক্ষাকৃত কম ওজনের সন্তানকে বাঁচাতে কুমিল্লায় নিয়ে আসেন চাঁদপুরের শাহ আলম ও রোকেয়া দম্পতি। চিকিৎসার জন্য সন্তানকে ভর্তি করান নগরীর ঝাউতলার সিভিক স্কয়ারের মা ও শিশু স্পেশালাইজড হসপিটালে। ছয় দিন চিকিৎসার পর ২৪ আগস্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের হাতে তুলে দেয় দুই লক্ষাধিক টাকার বিলের রসিদ। বিলের ফিরিস্তি দেখে আইসিইউতে থাকা সন্তান ফেলে পালিয়ে যান দারিদ্র্যপীড়িত মা-বাবা। বিষয়টি এখন গড়িয়েছে পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন পর্যন্ত।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মাত্র ৭০০ গ্রাম ওজন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নবজাতকের চিকিৎসায় ইতিবাচকভাবে সব কিছু চলছিল। এই কয়েক দিনে বেশ আরোগ্যও হয় শিশুটির। কিন্তু বিপত্তি দেখা দেয় বিল নিয়ে। ষষ্ঠ দিনে নবজাতকের চিকিৎসার বিলের পরিমাণ ওই দম্পতিকে জানানো হয়। ছয় দিনে দুই লাখ টাকা বিল হয়েছে। ওই বিল দেখেই সবার অজান্তে সন্তানকে হাসপাতালের এসআইসিইউতে রেখে গত ২৪ আগস্ট হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান দম্পতি। দিনভর মা-বাবার সন্ধান না পেয়ে ওই শিশুর বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

সোমবার ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিশুটির চিকিৎসা খরচ দুই লাখ ৩০ হাজার টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে বলে জানান কুমিল্লা মা ও শিশু স্পেশালাইজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বদিউল আলম।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসা খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যসেবায় অনেকটা এগিয়ে গেলেও মানবিক দিক দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছি।’ চিকিৎসাসেবায় জড়িতদের আরো মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবু সালাম মিয়া বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, চিকিৎসায় অতিরিক্ত ব্যয়ভারের কারণেই নবজাতকটির মা-বাবা পালিয়ে গেছেন। তবে হাসপাতালে দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী তাদের সন্ধান পাওয়া গেছে। পরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার আবু সাঈদ মো. তারেক জানান, শিশুটি আগের চেয়ে সুস্থ আছে। তবে তার এখন মায়ের বুকের দুধ প্রয়োজন।

 

 



মন্তব্য