kalerkantho


চলছে এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী

বৈচিত্র্যময় শিল্পকর্মে দীপ্তিময় শিল্পকলা

নওশাদ জামিল   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বৈচিত্র্যময় শিল্পকর্মে দীপ্তিময় শিল্পকলা

এশীয় দ্বিবার্ষিক আর্ট প্রদর্শনীতে গতকাল পারফর্মিং আর্ট প্রদর্শন করেন শিল্পীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সারা বিশ্বের ৬৮ দেশের শিল্পীদের বৈচিত্র্যময় শিল্পকর্মের বৈভবে এখন দীপ্তিময় গোটা শিল্পকলা একাডেমি। শিল্পের বহুমাত্রিকতায় সেজেছে জাতীয় চিত্রশালার বিশাল প্রদর্শনালয়টি। দেশ-বিদেশের শিল্পীদের নান্দনিক শিল্পকর্মগুলো মুগ্ধ করছে শিল্পরসিকদের। প্রথম তলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মননকে আলোড়িত করা নানা সৃষ্টি-সম্ভার। নানা মাধ্যমে আঁকা চিত্রকর্ম ছাড়াও রয়েছে ভাস্কর্য, স্থাপনাশিল্প, আলোকচিত্র, ভিডিও শিল্পসহ নানা শিল্পকর্ম। এর সঙ্গে নান্দনিকতা বাড়িয়ে দিয়েছে পারফরমিং আর্টের উপস্থাপনা। সামাজিক-রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক ভাবনার সঙ্গে শিল্পীর কল্পলোকে ভেসে বেড়ানো চিন্তার প্রকাশ ঘটেছে এসব শিল্পকর্মে। ১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর গতকাল সোমবার ছিল তৃতীয় দিন। গতকাল বিকেল থেকে সন্ধ্যা অবধি শিল্পকলা একাডেমি ঘুরে দেখা যায়, গোটা একাডেমি প্রাঙ্গণ এখন প্রাণবন্ত। একদিকে প্রদর্শনীতে যেমন দেশ-বিদেশের শিল্পীদের মিলনমেলা বসেছে, অন্যদিকে তা শিল্পের সম্ভারে হয়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময়। আর এ আয়োজনকে ‘বিশ্বশিল্পের মিলনমেলা’ হিসেবে অবহিত করেছে অনেকেই।

সংস্কৃতি মন্ত্রাণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনের মাসব্যাপী এ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে গত শনিবার। সেদিন বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ উদ্বোধন করেন এশিয়ার বৃহত্তম এ চারুকলা প্রদর্শনীর। এর পর থেকেই গোটা আয়োজনটি রাজধানীর শিল্পরসিকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে উঠেছে। গতকাল দেখা যায়, শিল্পকলায় এ প্রদর্শনী দেখতে হাজির হয়েছিল নানা বয়সের মানুষ।

দেশের চারুশিল্পের সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের অন্যতম মাধ্যম এ এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী। ৩৭ বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রদর্শনী আয়োজিত হয়ে আসছে। এ প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে যেমন শিল্পী প্রতিনিধিরা আসেন, তেমনি সারা দেশ থেকে শিল্পীরাও অংশ নেন।

চিত্রশালায় নিজের শিল্পকর্ম নিয়ে কথা বলছিলেন অভিনেত্রী ও শিল্পী বিপাশা হায়াত। এ আয়োজনে উপস্থাপিত হয়েছে তাঁর স্থাপনাচিত্র। শিরোনাম ‘স্মৃতির বস্তুগত রূপ ও ছায়া’। তাতে দেখা যায়, পুরনো ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র দিয়ে তিনি বানিয়েছেন শিল্পকর্ম, সেসব জিনিসপত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্মৃতি। পুরনো থালা, বাটি, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ, জুতা, পোশাকসহ নানা দ্রব্য দিয়ে তা সাজানো। সব কিছুরই রং কালো। বিপাশা হায়াত বলেন, ‘আমি মনোজগতের নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছি অনেক বছর ধরে। কাজ করছি স্মৃতি নিয়ে, চেতন ও অবচেতন মন নিয়ে। আমার সেই ভাবনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এই শিল্পকর্মে।’

চিত্রশালায় কোথাও শোভা পাচ্ছে দেশ-বিদেশের শিল্পীদের চিত্রকর্ম, ভাস্কর্যসহ নানা মাধ্যমের শিল্পকর্ম। কোথাও শোভা ছড়াচ্ছে আলোকচিত্র ও স্থাপনাচিত্র। কোথাও সেমিনার হচ্ছে চিত্রকলা নিয়ে। কোথায় বসেছে দেশ-বিদেশের শিল্পী ও দর্শনার্থীদের আড্ডা।

ঘুরে ঘুরে প্রদর্শনী দেখছিলেন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী নুসরাত বিনতে নূর। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রদর্শনীতে দেশ-বিদেশের শিল্পীদের শিল্পকর্ম দেখা সত্যিই দারুণ ব্যাপার। একেক দেশের শিল্পীদের কাজ একেক রকম। আমরা যেমন নানা দেশের সংস্কৃতি জানতে পারছি, তেমনই বিদেশের কাছে তুলে ধরতে পারছি নিজের দেশের সংস্কৃতি।’

এ প্রদর্শনীতে সংযোজন হিসেবে রয়েছে কারুপণ্য মেলা, ফুড কোর্ট, আর্ট ক্যাফে, শিশু কর্নার, আর্ট ক্যাম্প, পারফরম্যান্স আর্ট ওয়ার্কশপ ও ভাস্কর্য উদ্যান। শিল্পকলা একাডেমির মাঠে বিশাল শামিয়ানার নিচে রয়েছে উন্মুক্ত প্রদর্শনী। সেখানে যেমন রয়েছে আড্ডার জায়গা, তেমনি রয়েছে ছবি আঁকার ব্যবস্থা। দর্শকশ্রোতারা কৌতূহল নিয়ে দেখছিল শিল্পীদের আঁকিবুঁকি।

প্রদর্শনী দেখছিলেন অ্যাডর্ন পাবলিকেশনেসর প্রধান নির্বাহী সৈয়দ জাকির হোসাইন। তিনি বলেন, ‘এ প্রদর্শনী ঘিরে বিভিন্ন দেশের শিল্পী ও শিল্পসমঝদারদের বন্ধুত্বের এক অনুপম সেতুবন্ধন গড়ে উঠেছে। নানা দেশ ও সংস্কৃতির ভেতর থেকে উঠে আসা শিল্পী ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাবের এ আদান-প্রদানের সুফল আমরা দেখতে পাচ্ছি শিল্পকলাসংক্রান্ত নানা গবেষণায় এবং তাঁদের বৈচিত্র্যময় সৃজন সমাহারে। সব মিলিয়ে এ আয়োজনে দিন দিন জলুস বাড়ছে।’

পুরো সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে শিল্পরসিকরা সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চিত্রশালার ছয়টি গ্যালারিতে দেখতে পারবে এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর শিল্পকর্মগুলো।

 

 



মন্তব্য