kalerkantho


আরো একটি বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে দিল ‘ঘাসফড়িং’

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আরেকটি বাল্যবিয়ে ঠেকাল ‘ঘাসফড়িং’। বাল্যবিয়ে ঠেকানোর আলোচিত সংগঠন ‘ঘাসফড়িং’ সদস্যরা এবার বাগড়া দিয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের ভাটিসাভার গ্রামের একটি বিয়েবাড়িতে।

জানা যায়, জন্ম নিবন্ধনে কনের বয়স ছিল ১৯ বছর ছয় মাস দুই দিন। কিন্তু ওই মেয়েটি পড়ে স্থানীয় একটি বালিকা বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে। মেয়েটির বয়স ‘ভুয়া’ জানতে পেরে বিয়ে ঠেকাতে ঘাসফড়িং দল গতকাল সোমবার হানা দেয় ওই মেয়ের বাড়িতে। ওই গ্রামের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীটির বিয়ে ঠিক হয় পাশের তাড়াইল উপজেলার পুরুরা গ্রামের ভাঙারি ব্যবসায়ীর সঙ্গে। গত রবিবার থেকে রংবেরঙের বাতি দিয়ে পুরো বাড়ি সাজানো ছিল। গতকাল সোমবার সকাল থেকে চলছিল রান্নাবান্নার কাজ। দুপুরের পর আমন্ত্রিত অতিথিসহ বরের লোকজনকে বরণের প্রস্তুতি চলছিল। আর তখনই দুটি অটোরিকশায় করে হাজির হয় নান্দাইল পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়া ঘাসফড়িং সদস্য তুলি দেবনাথ, জান্নাতুল ইসলাম প্রান্তি, জীবন্নেছা খানম শ্যামা, লিজুয়ানা তাবাসসুম, জান্নাতুল ফেরদৌস, সুমাইয়া আক্তার শিমু ও জেসমিন আক্তার। তাদের সঙ্গে ওই বিয়েবাড়িতে যান ওই ছাত্রীর শিক্ষক হারুন আর রশিদ ও বিলকিস বেগম। এ সময় কনের বাবাকে জন্ম নিবন্ধন দেখাতে বললে তিনি বহি নম্বর ছাড়া ২০০৮ সালের সাবেক চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত একটি জন্ম নিবন্ধন দেখান। এ অবস্থায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হেলিম জন্ম নিবন্ধটি ভুয়া বলে চিহ্নিত করে এই বিয়ে বন্ধের অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে ছাত্রীর বাবা পূর্ণ বয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে দেবেন না মর্মে অঙ্গীকারনামায় সই করেন।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য আব্দুল হেলিম বলেন, ‘দুই বছর আগেও এই মেয়ের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন বাধার মুখে দিতে পারেনি।’

সাপাহারে আরেকটি বাল্যবিয়ে বন্ধ : এদিকে সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, স্থানীয় ওসির হস্তক্ষেপে নওগাঁর সাপাহারে ভেস্তে গেছে একটি বাল্যবিয়ে। উপজেলা সদরের তিলনা ইউনিয়নের সুন্দুরা গ্রামের রাব্বানীর ১৬ বছরের মেয়ের সঙ্গে নওগাঁর এক যুবকের বিয়ে চূড়ান্ত হয়। গতকাল সোমবার দুপুরে চলছিল বিয়ের আয়োজন। পরে ওই বিয়েবাড়িতে হাজির হন থানার ওসি শামসুল আলম।

 

 

 

 



মন্তব্য