kalerkantho


নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ধামরাইয়ের একমাত্র থানা

আবু হাসান, ধামরাই (ঢাকা)   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



৩০৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট ধামরাই উপজেলার প্রায় ছয় লাখ লোকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে থানা পুলিশ। তাই এ উপজেলায় আরেকটি থানার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। ধামরাই উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। আয়তনের দিক দিয়ে ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় এটি। তাই উপজেলার এক পাশে থাকা একটি মাত্র থানার মাধ্যমে এখানকার প্রতিটি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মধ্য দিয়ে চলে গেছে এশিয়ান হাইওয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। এ মহাসড়ক দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের যানবাহন চলাচল করে। এর সঙ্গে কালামপুর থেকে আঞ্চলিক মহাসড়কটি সাটুরিয়া ও বালিয়া হয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও মির্জাপুরে মিলিত হয়েছে। আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে বর্তমানে উত্তরবঙ্গের দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহনসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। এ দুটি মহাসড়ক বর্তমানে যানবাহনের চাপে দিন-রাত ব্যস্ত থাকে। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ ছাড়া দুটি মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে পাঁচ শতাধিক ছোট-বড় শিল্প-কারখানা। রয়েছে রপ্তানিমুখী কয়েকটি পোশাক কারখানা, কয়েকটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, পল্লী বিদ্যুতের দুটি জোনাল অফিস, বিসিক শিল্পনগরী, আন্তর্জাতিক জুতার কারখানা, আন্তর্জাতিকমানের সিরামিক কারখানাসহ কয়েকটি জুট মিল। তা ছাড়া রয়েছে প্রায় ২৫০টি ইটভাটা। এসব প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক কর্মচারী-কর্মকর্তা চাকরি করেন। শুধু তাই নয়, ধামরাই পৌর শহরসহ জয়পুরা ও কালামপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে সাভারের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শত শত শ্রমিক। তা ছাড়া এ এলাকায় দিন দিন শিল্প-কারখানা বাড়ছে। এসব বিবেচনায় সরকারের পক্ষ থেকেই এ উপজেলায় আরেকটি থানা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

গত বছরের ৯ আগস্ট তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন প্রস্তাবিত নতুন থানার ভবন নির্মাণের ৯৮ শতাংশ খাস জায়গাও পরিদর্শন করেন। কিন্তু এর পর আর এ কাজের অগ্রগতি হয়নি।

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ধামরাইয়ে একটি থানা ও একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র রয়েছে। এতে পরিদর্শক, উপপরিদর্শক, উপসহকারী পরিদর্শক, কনস্টেবলসহ মোট ৮৭ জন পুলিশ সদস্য কর্মরত আছেন। হিসাব করে দেখা যায়, ধামরাইয়ে গড়ে ছয় হাজার ৮০০ মানুষের নিরাপত্তায় মাত্র একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘ধামরাইয়ে জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা অনেক কম। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জনগণকে অল্প সময়ের মধ্যে সেবা দিতে পারছে না পুলিশ। ফলে নতুন থানা নির্মাণ করা হলে জনগণ দ্রুত সেবা পাওয়ার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।’ এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আরেকটি থানার দাবি জানিয়ে এলেও তা পূরণ না করায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছে বলে জানান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন। 

ধামরাই থানার ওসি মোহাম্মাদ রিজাউল হক বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে ধামরাইয়ে আরেকটি নতুন থানার প্রয়োজন রয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, ধামরাই উপজেলা অনেক বড়। লোকসংখ্যাও বেশি। তাই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে আরেকটি নতুন থানা জরুরি হয়ে পড়েছে।



মন্তব্য