kalerkantho


যাত্রী ও পরিবেশ বান্ধব এক অটোচালক

শেখ শাফায়াত হোসেন   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



যাত্রী ও পরিবেশ বান্ধব এক অটোচালক

তিন চাকার অটোরিকশার ছাউনির ওপর ছোট্ট বাগান। যাত্রী নিয়ে যখন যানটি চলে দোল খায় প্রায় দেড় শ জাতের ফুল-ফলের চারা। যাত্রীদের রয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই। আরো আছে পানি বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা ও ছোট্ট আকারের বৈদ্যুতিক পাখা। ভাড়া করা অটোরিকশাটিকে এভাবেই পরিবেশ ও যাত্রীবান্ধব করে গড়ে তুলেছেন গরিব সিএনজি অটোরিকশাচালক তপন চন্দ্র ভৌমিক।

শুধু কি তাই? প্রতিদিন তিনটি করে দৈনিক পত্রিকা অটোরিকশায় রাখেন তপন। তাত্ক্ষণিক বিনোদনের জন্য সিডি প্লেয়ার ও ছোট আকারের একটি টিভি মনিটর রয়েছে অটোরিকশায়। সন্ধ্যার পর যাতে অন্ধকারে যাত্রীদের ভয় না হয় সে জন্য রয়েছে এলইডি লাইট। এ ছাড়া দরকারি টুকিটাকি জিনিস যেমন—নখ কাটার মেশিন, ফেসিয়াল টিস্যু, প্রাথমিক চিকিৎসার ফাস্ট এইড বক্স, উপন্যাসও রেখেছেন এই আটোরিকশা চালক। এ ছাড়া অগ্নিনিরাপত্তার জন্য রয়েছে ছোট আকারের একটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার। তপন জানান, এসব আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো—যাত্রীদের জন্য একটি আরামদায়ক ভ্রমণের ব্যবস্থা করা। তা ছাড়া কিছুটা হলেও সবুজায়নে অবদান রাখা হবে বলেও মনে করেন তিনি।

৫০ বছর বয়সী তপন ১০ বছর ধরে এই পেশায় আছেন। চার মাস আগে তপন ৫০ হাজার টাকা খরচ করে এই অটোরিকশাটি এই সাজে সাজিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গ্রামের বাড়ি। ঢাকার খিলগাঁওয়ের পুরানবাজার এলাকায় তিন সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস করেন তিনি।

তপন কালের কণ্ঠকে বলেন, অটোরিকশার ছাদে গাছের চারা রোপণ করে তিনি মানুষকে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি অটোরিকশার মালিককেও বোঝাতে চেষ্টা করছেন যে যাত্রীদেরও আরামদায়ক ভ্রমণের দরকার রয়েছে।

মারজুক পরিবহন নামে আটোরিকশার মালিক এসব কাজে তপনকে বাধা দেননি। তপন বলেন, ‘আমার মালিক বরং আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। যখনই কোনো যাত্রী আমাকে ব্যতিক্রমী এই কাজটির জন্য ধন্যবাদ দেন বা আমার সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে সেলফি তোলেন, আমার তখন খুব ভালো লাগে।’ ইতিমধ্যে অনেক পত্রিকা এবং কিছু টেলিভিশন চ্যানেল তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদনও করেছে বলে জানান তপন।

উত্সুক অনেক লোকই এই সাজসজ্জা দেখে জানতে চায় ভাড়া বেশি দিতে হবে কি না। এমন কথা শুনে  এই অটোরিকশাচালক বলেন, ‘আমি কখনো বাড়তি ভাড়া চাই না। ভবিষ্যতেও চাইব না।’

তপন জানান, সম্প্রতি ‘ও ভাই’ নামের একটি অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং কম্পানির মাধ্যমে আধুনিক যাত্রীসেবা দিতে শুরু করেছেন তিনি। সেখান থেকে সন্তোষজনক বেতনও পাচ্ছেন বলে জানান তপন।

তপন জানান, আরো কিছু টাকা এই অটোরিকশার সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ব্যয় করবেন বলে ঠিক করেছেন তিনি। তপন বলেন, ‘আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে আমি এই অটোরিকশার চেহারা এমনভাবে বদলে দেব যেটা হয়তো আগে কেউ ভাবেইনি।’

তপনের এক ছেলে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করছেন। অন্য এক মেয়ে এবার উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আরেক মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।



মন্তব্য