kalerkantho


পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশ

অবৈধ গাড়ি চললে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধসহ অন্যান্য অপরাধ রোধে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে হাইওয়ে পুলিশের ওপর কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পাঠানো এ নির্দেশনায় বলা হয়—মহাসড়কে টমটম, নসিমন, ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ কোনো ছোট যানবাহন যাতে চলতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ওই সব যানবাহন রাস্তায় চললে পুলিশের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাড়ি তল্লাশির নামে পুলিশ কারো সঙ্গে খারাপ  আচরণ করতে পারবে না। গাড়ির গতি বেশি কি না তাও সার্বক্ষণিক মনিটর করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়িও কিছুতে চলতে দেওয়া যাবে না।

হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ নির্দেশনার পর হাইওয়ে পুলিশ নড়েচড়ে উঠে বলেও জানা যায়। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, হাইওয়ে পুলিশের হয়রানি অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি মহাসড়কেই হাইওয়ে পুলিশ নিজেদের দায়িত্ব ফেলে তল্লাশির নামে চাঁদাবাজি করে থাকে। পুলিশের সামনেই মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ টমটম, নসিমন ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সক্রিয় রয়েছে। কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার ১২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করেই রিকশাগুলো চালাতে হচ্ছে। ছোট ছোট যানবাহন চলাচলের কারণে মহাসড়কগুলোতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।’ তিনি আরো বলেন, যানবাহনের কাগজপত্র সঠিক না পেলেই পুলিশ খুশি হয়। টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পর দেওয়া হয় মামলা। নিরিবিলি নির্দিষ্ট স্পটে দাঁড়িয়ে টাকা তোলে পুলিশ। এখনো মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটি, থ্রি হুইলার, ইজিবাইক ইত্যাদি যানবাহন চলাচল করছে।

২৬ আগস্ট দুপুর ১টা। কুমিল্লার কুটুম্বপুর বাজারের পূর্ব পাশের মহাসড়কের হাইওয়ে পুলিশের একটি জিপ। গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র তল্লাশি করছে। কিন্তু সামান্য ত্রুটি থাকলেই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন টহলরত পুলিশ সদস্যরা। আবার টাকা পেয়ে মহাসড়কে নিষিদ্ধ টমটম, নসিমন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছে পুলিশ। পরীক্ষার নামে টাকা নেওয়ার দৃশ্য এই প্রতিবেদক ছবি তোলতে গেলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা টের পেয়ে নিজেদের গাড়ি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

হাইওয়ে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক আতিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশের প্রত্যেক সদস্য সততা ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছেন। সাম্প্রতিক নির্দেশনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মহাসড়কে কোনো অবৈধ গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। টমটম থেকে শুরু করে হালকা যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তবে ৮০ শতাংশ ওই সব যানবাহল রাস্তায় চলাচল করছে না। ইতিমধ্যে বেশ কিছু যানবাহন আটক করে জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। হাইওয়ে পুুলিশের বিরুদ্ধে টাকা-পয়সা নেওয়াসহ কোনো ধরনের অভিযোগ উঠলে তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার ও দুর্ঘটনা রোধে ২০০৫ সালের ১১ জুন ৭২টি পুলিশ ফাঁড়ি নিয়ে হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এর সুফল দৃশ্যমান নয়। অনুমোদনহীন যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালক পুলিশের নাকের ডগায় চলাচল করে থাকে।



মন্তব্য