kalerkantho


গোপালপুরে এলাকাবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ

পুলিশের লাঠিপেটা গুলি, আহত ১৪

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল রবিবার সকালে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ২৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। এ সময় পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটায় কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়। আহত কয়েকজনকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গোপালপুরের পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হক ছানা জানান, কোনাবাড়ী এলাকার মসলা মিলের মালিক শফিকুল ইসলামকে শনিবার রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাঁর নামে কোনো অভিযোগ নেই। গতকাল রবিবার সকালের দিকে তাঁর স্বজনরা গোপালপুর থানায় শফিকুলকে দেখতে যান। সেখানে পুলিশের সঙ্গে স্বজনদের কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় পুলিশ তাদের ওপর লাঠিপেটা করে। এতে সাদিয়া নামে ১০ বছর বয়সের চতুর্থ শ্রেণির এক শিশু হাতে আঘাত পায়। এ খবর কোনাবাড়ী এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। পুলিশ সেখানে গিয়ে ফাঁকা গুলি ও লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়। আহত শিশু সাদিয়ার মামা মোহাম্মদ জয়নুল বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সাদিয়াও থানায় গিয়েছিল শফিকুলকে দেখতে। অথচ পুলিশ তাকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে।

এদিকে গোপালপুর থানার ওসি হাসান আল মামুন দাবি করেন, গত শনিবার রাতে গোপালপুর পৌর এলাকার কোনাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শফিকুল নামের এক যুবককে ৩৭ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর নামে রাতেই মাদকদ্রব্য আইনে মামলা হয়। এ ঘটনা নিয়ে রবিবার সকালে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন রাস্তা অবরোধ করে নাশকতার সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ২৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও লাঠিপেটা করে। এ সময় এলাকার লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে এসআই আসলাম, এএসআই আমিনুল, কনস্টেবল জুবায়ের, আমিনুল, রাশেদুল ও আনিসুল আহত হন। জুবায়ের ও আমিনুলকে গোপালপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে সুমন ও সোহেল নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে।

গোপালপুরের পৌর মেয়র রকিবুল হক ছানা বলেন, পুলিশ মিথ্যা অভিযোগ করেছে। শফিকুলের নামে কোনো অভিযোগ নেই। সে মাদক কারবারি বা সেবনকারী নয়। আর পুলিশ বিএনপি-জামায়াতের যে অভিযোগ তুলেছে তাও পুরোপুরি মিথ্যা। এ এলাকায় আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক বেশি। এখানে বিএনপির নাশকতা করার সুযোগ নেই।

 



মন্তব্য