kalerkantho


প্রিয়কের গাড়িতে আর মায়ের আঁচলের ছোঁয়া লাগবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর ও আঞ্চলিক প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



প্রিয়কের গাড়িতে আর মায়ের আঁচলের ছোঁয়া লাগবে না

পুড়ে যাওয়া প্রিয়কের সেই গাড়ি। ছবি : কালের কণ্ঠ

এফ এইচ প্রিয়ক তাঁর একমাত্র শিশুকন্যা তামারা প্রিয়ন্ময়ীসহ গত ১২ মার্চ নেপালের কাঠমাণ্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। প্রিয়কের শখের ব্যক্তিগত একটি গাড়ি ছিল। গতকাল শনিবার ঢাকায় মেরামতের জন্য নেওয়ার পথে আচমকা গাড়িতে আগুন ধরে সেটি পুড়ে যায়। ওই সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন প্রিয়কের মামাতো ভাই মেহেদি হাসান মাসুম।

মাসুম জানিয়েছেন, ধোঁয়া দেখে তিনি গাড়ি থেকে নেমে গিয়েছিলেন। এর পরই আগুন ধরে যায় গাড়িটিতে।

বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটিতে থাকা ৩২ বাংলাদেশি যাত্রীর পাঁচজনই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা। উপজেলার নগরহাওলা গ্রামে পাশাপাশি বাড়ি তাঁদের। মেহেদি হাসান মাসুম ও তাঁর স্ত্রী সৈয়দা কামরুন নাহার স্বর্ণা ওই উড়োজাহাজের যাত্রী ছিলেন।

প্রিয়কের বন্ধু সোহানুর রহমান সোহান জানান, প্রিয়কের শখ ছিল লং ড্রাইভ আর ছবি তোলা। ২০১৫ সালে প্রিয়ক প্রায় ২২ লাখ টাকায় মাজদা এক্সেলা গাড়ি কেনেন। গাড়িটি সিলভার রঙের হলেও চলতি বছরের শুরুতে গাড়ির রং বদলান তিনি। প্রিয়ক নিজেই চালাতেন গাড়িটি।

সোহান জানান, প্রিয়কের মৃত্যুর পর থেকে বাড়ির নিচতলায় গ্যারেজেই পড়ে ছিল গাড়িটি। গাড়ির এসিসহ কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল। তা সারানোর জন্য গতকাল শনিবার ভোরে গাড়ি ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন মেহেদি হাসান মাসুম।

মাসুম জানান, পথে রাজেন্দ্রপুর এলাকায় পৌঁছার পর গাড়ির সামন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। পরে তিনি পাশে মাস্টারবাড়ী এলাকায় একটি ওয়ার্কশপের সামনে গাড়িটি থামিয়ে নেমে যান। এর কয়েক মিনিট পরই আগুন জ্বলে ওঠে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঢাকার পথে যান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। পরে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থল পৌঁছে আগুন নেভালে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।’

প্রিয়কের মায়ের কান্না : প্রিয়কের বাড়ির প্রতিটি কক্ষ সুনসান নীরব। মাঝেমধ্যে একটি কক্ষ থেকে কান্নার আওয়াজ শোনেন প্রতিবেশীরা। তিনি আর কেউ না প্রিয়কের মা ফিরোজা বেগম। একমাত্র ছেলে ও নাতনিকে হারিয়ে চোখের জল শুকালেও কান্না থামেনি তাঁর। প্রতিবেশীরা জানায়, অনেক সময় বাড়ির নিচতলায় গ্যারেজে থাকা প্রিয়কের শখের গাড়ির কাছে যেতেন ফিরোজা বেগম। নিজের আঁচল দিয়ে মুছতেন গাড়িটি। এই কাজটিও এখন স্মৃতির পাতায় চলে গেল। ছেলের পর তার গাড়িটি পুড়ে যাওয়ায় মা নতুন করে মুষড়ে পড়েছেন।



মন্তব্য