kalerkantho


ইডকলের আরেক উদ্যোগ

দুর্গম এলাকায় আলোর অবলম্বন ‘মিনি গ্রিড’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সৌরবিদ্যুতের মিনি গ্রিডে পাল্টে যাচ্ছে দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনধারা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেসব স্থানে এখনো বিদ্যুৎ যায়নি, সেখানে প্রযুক্তির আশীর্বাদে পৌঁছে যাচ্ছে বিদ্যুতের আলো। সিরাজগঞ্জ শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে নদী তীরবর্তী এলাকা রূপসা বাজার। বছরের পর বছর ধরে ওই বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ডিজেলচালিত জেনারেটর দিয়ে দোকানে আলো জ্বালিয়েছে। বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কম্পানির (ইডকল) সহযোগিতায় সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। রূপসা বাজারের ভাই ভাই স্টুডিও, হ্যাপি মেশিনারিজসহ সব দোকান এখন সৌরবিদ্যুতের মিনি গ্রিডে আলোকিত।

ইডকলের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা অনেক কঠিন কাজ। প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রিড সম্প্রসারণ করা অনেক ব্যয়বহুলও। তার পরও বর্তমান সরকার দেশের সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে মিনি গ্রিড প্রকল্পের মাধ্যমে ইডকল দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। ইডকল এরই মধ্যে দেশের ২৭টি প্রত্যন্ত অঞ্চলে সোলার মিনি গ্রিড প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে বলে জানান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ মালিক। তিনি বলেন, এর মধ্যে ১৭টি কর্মক্ষম এবং বাকিগুলো নির্মাণাধীন।

ইডকলের কর্মকর্তারা ভোলার মনপুরার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ৫০ হাজার মানুষের বসবাস এই চরে এখন সোলার মিনি গ্রিড প্রকল্পে আলোকিত হাটবাজার ও বাড়ি। বিদ্যুতের আলোয় কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে ভোলার প্রত্যন্ত মনপুরার চরের মানুষ।

ইডকলের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ মালিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ২০০ সোলার মিনি গ্রিড প্রকল্পে অর্থায়ন করবে ইডকল, যার মাধ্যমে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের দুই লাখ ঘর ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। তিনি বলেন, ২০০ সোলার মিনি গ্রিড প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা হবে ৫০ মেগাওয়াট। এর মাধ্যমে চরাঞ্চলের এক লাখ ৪৪ হাজার টন কেরোসিন জ্বালানি এবং তিন লাখ ৪৮ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ নির্গমন কমবে। তিনি জানান, প্রত্যন্ত এলাকায় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং এনজিওর মাধ্যমে সোলার মিনি গ্রিড প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রত্যেক প্রকল্পের ২০ শতাংশের অর্থায়ন বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান করবে। আর ৫০ শতাংশের ভর্তুকি এবং ৩০ শতাংশ ঋণ হিসেবে দেবে ইডকল। ৬ শতাংশ সুদে ১০ বছরের জন্য এ ঋণ দেওয়া হয়।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডাব্লিউইএফ) প্রকাশিত ‘এনার্জি আর্কিটেকচার পারফরম্যান্স ইনডেক্স ২০১৭’ প্রতিবেদন মতে, বিদ্যুতের কাঠামোগত দক্ষতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৪তম। বাংলাদেশে বিদ্যুতের মাথাপিছু উৎপাদন ৪০৭ কিলোওয়াট, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে কম। জনসংখ্যার একটি বড় অংশ বিদ্যমান গ্রিড লাইনের বাইরে দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাস করে, যেখানে গ্রিড সম্প্রসারণ করা ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। এই পরিস্থিতিতে সোলার মিনি গ্রিড প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান ইডকলের কর্মকর্তারা।

ভোলার মনপুরা ও সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সোলার মিনি গ্রিড প্রকল্প বাস্তবায়নের পর সেখানকার জনজীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, হাসপাতাল, কম্পিউটার সার্ভিস সেন্টারগুলোতে সেবা পাচ্ছে চরের বাসিন্দারা। ইজি বাইকের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষ উন্নত পরিবহন সেবা পাচ্ছে। গ্রামীণ নারীদের মধ্যে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

 

 



মন্তব্য