kalerkantho


বৈঠার ছন্দে নাচল তিতাস

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বৈঠার ছন্দে নাচল তিতাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায় তিতাস নদীতে গতকাল নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

কালজয়ী ঔপন্যাসিক অদ্বৈত মল্লবর্মণের শান্ত তিতাস কাল বিকেলে ছিলে উদ্বেল। বাইচের ১০ নৌকা তো ছিলই, সেই সঙ্গে দর্শনার্থীদের হাজার নৌকার দাপাদাপিতে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। প্রতিযোগিতার নৌকার মাঝিদের বৈঠার ছন্দে আরো গতি পায় ঢেউ। আর এসব দেখে সে কী আনন্দ লাখো মানুষের!

নৌকাবাইচ উপলক্ষে তিতাসে সৃষ্টি হয় এমন দৃশ্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার শিমরাইলকান্দি শ্মশানঘাট থেকে মেড্ডা কালাগাজীর মাজার পর্যন্ত গতকাল শনিবার বিকেলে এ প্রতিযোগিতা হয়। জেলা প্রশাসন আয়োজিত বাইচে ১০টি নৌকা অংশ নেয়।

গতকাল দুপুর আড়াইটায় শ্মশানঘাটে বাইচের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নারী সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মোশারফ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান, বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌফিকুর রহমান তপু, পৌর মেয়র নায়ার কবির ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার। প্রতিযোগিতায় নাসিরনগরের হরিপুরের দেওয়ান আতিকুর রহমানের দল প্রথম, বিজয়নগরের হরষপুরের সারোয়ার ইসলামের দল দ্বিতীয় ও একই উপজেলার ফুল ইসলামের দল তৃতীয় স্থান অর্জন করে। কালাগাজীর মাজার এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

নৌকাবাইচ উপলক্ষে নদীর পূর্ব ও পশ্চিম পারের প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাখো লোকের সমাগম ঘটে। হাজারখানেক নৌকা ছিল ওই এলাকার তিতাসের বুকজুড়ে। এসব নৌকায় গান বাজিয়ে নেচে-গেয়ে আনন্দ করে দর্শনার্থীরা।

ছোট্ট ভাতিজাকে কোলে নিয়ে আসা বিজয়নগর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের অলি মিয়া বলেন, ‘আউস (শখ) কইরা ভাতিজারে লইয়া নাও দৌড়ানি দেকতাম আইছি। নাও দৌড়ানি দেখতে বালা লাগে।’ একই উপজেলার বোল্লা গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল খালেক বলেন, ‘নৌকাবাইচের আয়োজন হলে আমি ছুটে আসি।’

কথা হয় বাদ্য দলের বাঁশিবাদক প্রিতম্বরের সঙ্গে। তিনি জানান, নবীনগরের যে দলটি প্রতিযোগিতায় এসেছে, তাদের সঙ্গেই তিনি এখানে আসেন। কালাগাজী মাজার এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা আল-আমিন বলেন, ‘বেশ ভালোই বিক্রি হয়েছে।’

মাঝির মৃত্যু : বাইচে অংশ নেওয়া নবীনগরের নৌকার মাঝি জাহের মিয়া (৪০) মারা গেছেন। বাইচ চলাকালে অসুস্থ বোধ করলে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। জাহের মিয়া হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার ৬ নম্বর কাকপাশা ইউনিয়নের বাগতা গ্রামের আরজু মিয়ার ছেলে।

নৌকার প্রধান মাঝি বানিয়াচংয়ের সাবেক ইউপি মেম্বার মো. মাঈনুদ্দিন জানান, নবীনগরের হয়ে তাঁদের নৌকাটি অংশ নেয়। তাঁরা মোট ১০৫ জন এসেছিলেন। প্রথম রাউন্ডের বাইচ শুরু হওয়ার পর নৌকা চলা অবস্থায় জাহের মিয়া অসুস্থ হয়ে ঢলে পড়েন। তখনই তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।



মন্তব্য