kalerkantho


জাতি গঠনে সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রশংসা রাষ্ট্রপতির

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের সব অর্জনে শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অসাধারণ অবদানের প্রশংসা করেছেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে (বিএসএ) মাসব্যাপী এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের জাতি গঠনে শিল্প ও সংস্কৃতিরও ব্যাপক অবদান রয়েছে। যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে অথবা অন্য যেকোনো আপৎকালীন সময়ে সাংস্কৃতিক কর্মীরা সব সময় সাহসী ভূমিকা পালন করেন।’

হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁরা (সাংস্কৃতিক কর্মীরা) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।’ তিনি শৃঙ্খলা, জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেমের চেতনা উদ্দীপ্ত করা এবং দেশের কিশোর-তরুণদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিকাশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘বন্ধুত্ব ও বন্ধনের বিকাশে চারুকলার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের মানচিত্রে একটি দেশ ও জাতিকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে এটি সহায়তা করতে পারে।’

এই আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, প্রদর্শনীটি এ দেশ ও অঞ্চলের সংস্কৃতি, চারুকলা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করবে। আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, শিল্পের সৌন্দর্যানুরাগ ও আবেদন সীমাহীন ও চিরস্থায়ী। জাতীয় সংস্কৃতির পাশাপাশি প্রত্যেকটি শিল্পকর্ম ব্যক্তির চিন্তাধারা, আদর্শ প্রকাশ করে।’ তিনি বলেন, ‘তাই শিল্পকর্ম ও শৈল্পিক চিন্তা ব্যক্তিগত হলেও এসব সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডের ব্যাপ্তি চিরদিনের।’

১৮তম এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীকে দেশের ও বিদেশের শিল্পীদের মধ্যে মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি শক্তিশালী ও কার্যকর মঞ্চ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, এর মাধ্যমে চারুকলার সৌন্দর্যানুরাগে নতুন উচ্চতা যোগ হবে এবং শিল্পী ও দর্শনার্থীদের আগামী দিনগুলোতে নতুন কিছু করতে অনুপ্রাণিত করবে।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই প্রদর্শনী বিশ্বে বাংলাদেশি চিত্রকর্মকে পরিচিত করতে এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে সহায়তা করবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রদর্শনীর পর্যবেক্ষক ইমেরিটাস অধ্যাপক তেতসুয়া নোদা, জুরি বোর্ডের সভাপতি শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী প্রমুখ।

পরে রাষ্ট্রপতি আর্ট গ্যালারি ঘুরে দেখেন। বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট সচিবরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রদর্শনীতে পেইন্টিং, প্রিন্ট, ফটোগ্রাফি, ভাস্কর্য, ইলাস্ট্রেশন, পারফর্মিং আর্ট, নিউ মিডিয়াসহ বিশ্বের ৬৮টি দেশের ৪৬৫ জন শিল্পীর ৪৮৩টি দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। আয়োজকরা জানিয়েছে, প্রদর্শনীটি এ মাসের শেষ পর্যন্ত চলবে। সূত্র : বাসস।

 



মন্তব্য