kalerkantho


জলদস্যুদের ২৬টি বাহিনীর ২৭৪ জনের আত্মসমর্পণ

৪০৬ অস্ত্র ও ১৯২৮৫ গুলি জমা

নিখিল ভদ্র   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



দস্যুবৃত্তি ছেড়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এ পর্যন্ত সুন্দরবন অঞ্চলের ত্রাস ২৬টি বাহিনীর ২৭৪ জন সদস্য র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তারা জমা দিয়েছে ৪০৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৯ হাজার ২৮৫টি গুলি। আত্মসমর্পণকারীদের র‌্যাবের পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরো বেশ কিছু জলদস্যু ও বনদস্যুও আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়ায় আছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব মো. আবদুল মালেক স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গঠিত জলদস্যু/বনদস্যুদের পুনর্বাসনসংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সভাপতি হিসেবে র‌্যাব মহাপরিচালককে মনোনীত করার পর দস্যুদের আত্মসমর্পণ কার্যক্রম তরান্বিত হয়। আত্মসমর্পণ করা দস্যুদের পুনর্বাসনে র‌্যাবের পক্ষ থেকে এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ২৩ মে খুলনায় এক অনুষ্ঠানে সুন্দরবনের দাদা বাহিনীর ১৫ জন, হান্নান বাহিনীর ৯ জন, আমির আলী বাহিনীর সাতজন, সূর্য বাহিনীর ১০ জন, ছোট সামসু বাহিনীর ৯ জন ও মুন্না বাহিনীর সাতজন সদস্য আত্মসমর্পণ করে। তারা ৫৮টি অস্ত্র ও এক হাজার ৪১৪টি গুলি জমা দিয়েছে। এর আগে ১ এপ্রিল বরিশালে আত্মসমর্পণ করে ডন বাহিনীর ১০ জন, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৯ জন ও ছোট সুমন বাহিনীর আটজন। তারা জমা দিয়েছে ২৮টি অস্ত্র ও এক হাজার ৮১টি গুলি। এ ছাড়া চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি বরিশালে বড় ভাই বাহিনীর ১৮ জন, ভাই ভাই বাহিনীর আটজন ও সুমন বাহিনীর ১২ জন আত্মসমর্পণ করে। তারা ৩৮টি অস্ত্র ও দুই হাজার ৯৬৯টি গুলি জমা দেয়।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বনদস্যু ও জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৯ মে। ওই দিন বাগেরহাটের মোংলা বিএফডিসি ঘাটে এক অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণ করে মাস্টার বাহিনীর প্রধানসহ ১০ জন। এরপর ওই বছরের ১৭ জুলাই একই স্থানে মজনু বাহিনীর ৯ জন ও ইলিয়াস বাহিনীর দুজন, ৭ সেপ্টেম্বর বরিশালে আলম বাহিনীর চারজন ও সাগর বাহিনীর ১০ জন, ১৯ অক্টোবর বরগুনায় সাগর বাহিনীর ১৩ জন এবং ২৫ নভেম্বর বরিশালে খোকাবাবু বাহিনীর ১২ জন আত্মসমর্পণ করে। এরপর গত বছরের ১ নভেম্বর পিরোজপুরে মজিদ বাহিনীর ৯ জন ও মানজু বাহিনীর ১১ জন আত্মসমর্পণ করে। এর আগে একই বছরের ২৮ এপ্রিল পটুয়াখালীতে আলিফ বাহিনীর ১৯ জন ও কবিরাজ বাহিনীর ছয়জন, ২৯ মার্চ বরিশালে রাজু বাহিনীর ১৫ জন, ২৭ জানুয়ারি একই স্থানে জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২০ জন এবং ৫ জানুয়ারি পটুয়াখালীতে নোয়া বাহিনীর ১২ জন সদস্য অস্ত্র, গুলিসহ আত্মসমর্পণ করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সূত্র জানায়, আত্মসমর্পণপ্রক্রিয়া চালানোর পাশাপাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ১৫ আগস্ট সুন্দরবনে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বনদস্যু আল-আমিন বাহিনীর সদস্য বাবু (৩৮) নিহত হয়। এ সময় দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা ২৩ জেলে, সাতটি নৌকা ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২৮ জুলাই বরগুনার পাথরঘাটায় বলেশ্বর নদের মাঝের চরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জলদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য কাজল নিহত হয়। র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও তিনটি গুলি উদ্ধার করেন।

সংসদীয় কমিটির সদস্য মোজাম্মেল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যে কারণে অনেকেই আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে। কেউ কেউ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। আবার অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে।

 

 



মন্তব্য