kalerkantho


বোমা মিজানকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু

ওমর ফারুক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বোমা মিজানকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষ নেতা মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজানকে ভারত থেকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাকে বহিঃসমর্পণ চুক্তির আওতায় আনা হবে। এর আগে এই চুক্তির আওতায় নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার আসামি নূর হোসেনকে ফেরত আনা হয়।

নাম প্রকাশ না করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিজানকে ফেরত আনার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র পাঠানো হবে। তারা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘মিজানকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।’

কয়েক দিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘মিজানকে সময়মতো দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দিবিনিময় চুক্তি রয়েছে। আমরা যাকে চাচ্ছি কিংবা তারা যাকে চাচ্ছে, তা কিন্তু আদান-প্রদান হচ্ছে। আমরা সময়মতো তাকেও নিয়ে আসব।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতে বোমা মিজানকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পর বাংলাদেশের তরফ থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ফেরত আনার উদ্যোগ নেয় সরকার। তার অংশ হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মিজানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এখন সেই কাগজপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে ভারতে পাঠানো হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এরই মধ্যে ভারতে মিজানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখন বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারাধীন। আদালতের নির্দেশ পেলে তাকে ফিরিয়ে আনা যাবে। এর আগে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের আসামি নূর হোসেনকে ফেরত আনার ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল।

গত ৬ আগস্ট ভারতের বেঙ্গালুরু শহরের এক গোপন আস্তানা থেকে মিজানকে গ্রেপ্তার করে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। এ ছাড়া সংস্থাটি কেরালা থেকে গত ৩ আগস্ট আব্দুল করিম ওরফে ছোটা (১৯), মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে শাহিন ওরফে তুহিনকে (৩৭) আটক করে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বোমা তৈরির সার্কিট, বিস্ফোরক, ডায়াগ্রাম, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে প্রিজন ভ্যান থেকে আরো দুই জঙ্গির সঙ্গে বোমা মিজানকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বাকি দুই জঙ্গি ছিল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি ও রাকিবুল হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদ। এর মধ্যে হাফেজ মাহমুদকে ওই দিন দুপুরেই টাঙ্গাইলে স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটক করে পুলিশ। পরে গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন তিনি।

এদিকে ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান শহরের খাগড়াগড়ের একটি দোতলা বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দুই জঙ্গি নিহত এবং একজন আহত হয়। এই ঘটনার পর ভারতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ জানতে পারে, খাগড়াগড়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণের অন্যতম হোতা বোমা মিজান। সে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান নিয়ে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পরে বোমা মিজানকে ধরতে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

এনআইএর দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিহার রাজ্যের বুদ্ধগয়ায় হামলার মূল হোতাও বোমা মিজান। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর উগ্রপন্থী বৌদ্ধ এবং সে দেশের সেনাবাহিনীর চালানো হত্যাযজ্ঞের প্রতিশোধ নিতেই জঙ্গিরা বুদ্ধগয়ায় হামলা চালিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা আনন্দবাজারের অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, বোমা মিজানকে ফেরত আনার জন্য বাংলাদেশ সরকার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে। সে আবেদন ওই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে এনআইএর কাছে গেছে। তবে এখনই মিজানকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে চাইছে না এনআইএ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার চেষ্টা ছাড়াও তারা চাইছে, আগে সেখানকার বিচার পর্ব শেষ হোক। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা সেখানে গিয়ে মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি পাবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনি এ ব্যাপারে জানেন না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইচ্ছা করলে নিজেদের উদ্যোগে মিজানকে ফেরত চেয়ে আবেদন করতে পারে।



মন্তব্য