kalerkantho


নান্দাইলে বৃদ্ধার বয়স্ক ভাতা তুলে নিলেন ইউপি মেম্বার!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহনিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ঈদের আগেই বয়স্ক ভাতার টাকা পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে চার হাজার টাকার চুক্তিতে তিন হাজার টাকা নগদ নিয়ে সংখ্যালঘু এক বৃদ্ধার জন্য বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করেন স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য কুলসুম আক্তার। কিন্তু ব্যাংক থেকে তুললেও সেই টাকা ভাগ্যে জোটেনি অসহায় বৃদ্ধা কমলা রানী নমদাসের (৭০)। তাঁকে না জানিয়ে ছয় হাজার টাকার পুরোটাই ওই ইউপি সদস্য আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামে।

খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার ওই গ্রামে গেলে কমলা নমদাস জানান, তাঁর সহায়-সম্বল কিছু নেই। অসুখবিসুখে ভুগছেন। চলতেফিরতে পারেন না। প্রতিবেশী ইউপি সদস্য কুলসুম আক্তারকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিতে বললে তাঁর কাছে চার হাজার টাকা চান। পরে তিনি ছোট ছেলে বিজয় নমদাসের মাধ্যমে প্রতিবেশী মো. ফখর উদ্দিনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা ধার করে কুলসুমকে দেন। বাকি এক হাজার টাকা ভাতা উত্তোলন করে তা থেকে পরিশোধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। পরে জানতে পারেন, ব্যাংক থেকে ছয় হাজার টাকা তোলা হয়েছে। কিন্তু তাঁকে কোনো টাকা না দিয়ে বইটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।

উপকারভোগী কমলার বইটিতে (নম্বর-৮৮৬৪) দেখা যায়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের নান্দাইল উপজেলা কর্মকর্তা ইনসান আলী গত ৩০ জুন বইটি অনুমোদন করেছেন। কৃষি ব্যাংকে তাঁর হিসাব নম্বর ২৩৯১। গত বছরের জুলাই থেকে কমলার নামে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের ভাতা অনুমোদিত হয়েছে। গত ২০ আগস্ট এই বই দিয়ে ছয় হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মেম্বার কুলসুম আক্তার কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘এই রহম তে বেক (সব) মেম্বরই করে। ট্যাহা ছাড়া কেলা বয়স্ক/বিধবা ভাতার কার্ড কইরা দেয়।’ পরে একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ভাই, আমার অপরাধ অইছে। সব ঠিক কইরা দিয়ামনে।’

স্থানীয় মোয়াজ্জেমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘ওই মেম্বার যে কাজ করেছেন, তা ন্যক্কারজনক। দ্রুত টাকা ফেরত দিতে বলেছি। না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে মোয়াজ্জেমপুর কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. নাজমুল হক বলেন, এটা তো হওয়ার কথা নয়। কিভাবে ঘটল তা সেকেন্ড অফিসার বলতে পারবেন। পরে ব্যাংকের দ্বিতীয় কর্মকর্তা রুহুল আমীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় মেম্বাররা উপকারভোগীদের অসুস্থতার কথা বলে নিজেরাই টাকা তুলে নেন।’



মন্তব্য