kalerkantho


পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন

এসবি পরিচয়ে টাকা হাতিয়ে নিত প্রতারকচক্র

গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘আমি এসবি অফিস থেকে ইন্সপেক্টর রফিক বলছি। আপনি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। আপনার ফাইল আমার কাছে আছে।’ মহসীন আলম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি গত ২০ আগস্ট আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে তাঁর মা ও স্ত্রীর পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। পাঁচ দিন পর এসবি পরিচয় দিয়ে ফোন করে ওপরের কথাগুলো বলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকচক্র। 

পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের কাছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে  এভাবে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। তারা পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে আবেদনকারীর কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব  ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে শনাক্ত হয়েছে ওই চক্র। ওই চক্রের প্রধান রাকিব মিয়া এবং তার সহযোগী কামাল হোসেন ও সজীবকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের কাছে একটি স্টুডিও ও ফটোকপির দোকানের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল শুক্রবার পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, চক্রটির কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণা করার কথা স্বীকার করেছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত রুবেল, মনির, ইউসুফসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো সাত-আটজনের বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। তাদেরও আটকের জন্য অভিযান চলছে। চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে পিবিআইয়ের এসআই এমদাদুল হক বাদী হয়ে শেরেবাংলানগর থানায় মামলা করেছেন।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, মহসীন আলম মোল্লা নামের একজন গত ২০ আগস্ট আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে তাঁর মা ও স্ত্রীর জন্য পাসপোর্টের আবেদন করেন। পাঁচ দিন পর এসবি পরিচয় দিয়ে ফোন করে বলা হয়, ‘আমি এসবি অফিস থেকে ইন্সপেক্টর রফিক বলছি। আপনি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। আপনার ফাইল আমার কাছে আছে।’ এরপর মহসীনের কাছে ওই ব্যক্তি তিন হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি তাত্ক্ষণিক দেড় হাজার টাকা বিকাশ করেন। কিন্তু পরদিন পাসপোর্টের তদন্তের জন্য মালিবাগ এসবি অফিস থেকে ডাকা হলে তিনি বুঝতে পারেন, আগের দিন এসবির লোক পরিচয় দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ব্যক্তি ভুয়া।

একই চক্রের ফাঁদে পড়েছিলেন একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকও। তাঁর কাছেও পাসপোর্ট তদন্তের জন্য দুই হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনিও এসবি পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিকে বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে এসবি অফিসে গিয়ে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

এ ছাড়া মিরপুর এলাকার এক নারীও ওই প্রতারকচক্রের খপ্পরে পড়ে এক হাজার টাকা বিকাশ করেন। তাঁর কাছে পাসপোর্টের ভেরিফিকেশনের খরচ বাবদ এসবি অফিসের ইন্সপেক্টর পরিচয়ে দেড় হাজার টাকা দাবি করে প্রতারকচক্রের এক সদস্য। একইভাবে তেজগাঁও এলাকার আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে এক হাজার এবং উত্তরা এলাকার একজনের কাছ থেকে দেড় হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকচক্রটি।

পিবিআই আরো জানায়, প্রতারকচক্রটি ঢাকার পাসপোর্ট অফিসের আশপাশের বিভিন্ন ফটোকপির দোকানদার ও দালালদের কাছ থেকে পাসপোর্ট আবেদন ফরমের কপি দুই থেকে তিন শ টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করে। সেই ফরমে দেওয়া মোবাইল নম্বরে ফোন করে এসবির অফিসার পরিচয়ে আবেদনকারীদের কাছে ভেরিফিকেশনের খরচ বাবদ টাকা হাতিয়ে নেয়। ৪০ থেকে ৫০ জন আবেদনকারীকে প্রতিদিন ফোন করত চক্রটি।



মন্তব্য