kalerkantho


আজ আসছে ‘আকাশবীণা’

ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে পুনর্জাগরণের স্বপ্ন বিমানের

সেপ্টেম্বরে প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মাসুদ রুমী   

১৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে পুনর্জাগরণের স্বপ্ন বিমানের

চতুর্থ প্রজন্মের চারটি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার দিয়ে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কম্পানির কাছ থেকে কেনা এই চারটির প্রথম উড়োজাহাজ ‘আকাশবীণা’ আসছে আজ রবিবার। আরেকটি আসবে নভেম্বরে এবং বাকি দুটি আসবে আগামী বছরের নভেম্বরে।

মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সিয়াটল কারখানা থেকে সরাসরি ১৫ ঘণ্টার যাত্রা শেষে আজ বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে আকাশবীণা। আগামী ১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। আর সেদিনই সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে আকাশবীণার বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হবে। এটি দিয়ে আপাতত কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুরে ফ্লাইট পরিচালনা করবে রাষ্ট্রায়ত্ত এই বিমান সংস্থা। দ্বিতীয় ড্রিমলাইনারটি দিয়ে লন্ডন ও ইউরোপের কিছু গন্তব্যে যেতে চায় বিমান। নিই ইয়র্কে ফ্লাইটের অনুমতি না পাওয়ায় দূরপাল্লার উপযোগী এই উড়োজাহাজ নিয়ে স্বল্প দূরত্বের গন্তব্যেই সীমিত থাকতে হচ্ছে বিমানকে।  

বিমান সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে চারটি ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িং কম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে বিমান। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালে এই উড়োজাহাজ সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু বিমানবহরে আধুনিক উড়োজাহাজ যুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে নির্ধারিত সময়ের আগেই ২০১৯ সালের মধ্যেই চারটি ড্রিমলাইনারই সরবরাহ করতে সম্মত হয় বোয়িং। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আকাশবীণা, হংস বলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস নামের এই উড়োজাহাজগুলো দিয়ে নতুন রুট এবং ইউরোপসহ দূরপাল্লার বন্ধ হয়ে যাওয়া রুটগুলো চালু করতে চায় বিমান।

দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট সর্বাধুনিক এই উড়োজাহাজে আসনসংখ্যা হবে ২৭১। আর ড্রিমলাইনারে বোয়িং ৭৬৭ উড়োজাহাজের চেয়ে ২০ শতাংশ কম জ্বালানি লাগবে।

বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিয়াটলে বোয়িংয়ের ডেলিভারি সেন্টার থেকে তাদের একজন পাইলটের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন ফজল কামাল ও ফার্স্ট অফিসার আনিতা আকাশবীণা চালিয়ে আজ বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।

সকালে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর এবং সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরে যাবে আকাশবীণা। যাত্রার শুরুতে ঢাকা-সিঙ্গাপুর আসা-যাওয়ার জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ প্রমোশনাল ভাড়া ঠিক করেছে ২০০ মার্কিন ডলার। আর ঢাকা-কুয়ালালামপুর ফিরতি যাত্রার টিকিট মূল্য ২৯০ ইউএস ডলার (ট্যাক্স ও চার্জ বাদে)। বিমানের কর্মকর্তারা জানান, ড্রিমলাইনারে ২৪টি আসন থাকবে বিজনেস ক্লাসের। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ে যেতে পারবে এই উড়োজাহাজ। থাকবে ওয়াই-ফাই সুবিধা। এ সুবিধা এখন পর্যন্ত দিচ্ছে বিশ্বের মাত্র ৫৪টি বিমান সংস্থা। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শুধু শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসে এই সুবিধা পাওয়া যায়। ফোন করা যাবে। দেখা যাবে ক্ল্যাসিক থেকে ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র। বিশ্বসেরা ৯টি টিভি চ্যানেলের রিয়াল টাইম লাইভ দেখা যাবে।

বোয়িং সূত্র জানায়, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার হালকা যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি হওয়ায় এভিয়েশনশিল্পে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জ্বালানিসাশ্রয়ী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। একবার তেল নিয়ে একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়ালে সক্ষম এটি।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ক্যাটাগরি-২ থেকে ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত হবে এই আশায় ড্রিমলাইনার নেওয়া হয় মূলত ঢাকা-নিউ ইয়র্ক ননস্টপ ফ্লাইটের জন্য। কিন্তু ২০০৮ সালে যখন অর্ডার দেওয়া হয় তখন বিমান আশা করেছিল ১০ বছরে বাংলাদেশ ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত হবে এবং ঢাকা-নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট চালু হবে; কিন্তু বিমানের সেই আশা পূরণ হয়নি বলে জানান বিমান বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও (ভারপ্রাপ্ত) ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল বলেন, ‘বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার দিয়ে আমরা নতুন এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া রুটগুলো ফের চালু করতে পারব।’

তবে উচ্চ প্রযুক্তির উড়োজাহাজ দিয়ে প্রতিযোগিতা করতে গেলে অবশ্যই বিমানের সেবার মান বৈশ্বিক এয়ারলাইনসের পর্যায়ে নিতে হবে বলে জানালেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা। গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেকোনো এয়ারলাইনসের জন্য ড্রিমলাইনারের মতো উড়োজাহাজ থাকা অনেক বড় ব্যাপার। এখন এর সুফল কাজে লাগাতে হলে সঠিক বাণিজ্যিক পরিকল্পনা থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিলাসবহুল এই উড়োজাহাজের ভাড়া বেশি হবে। এ জন্য টার্গেট মার্কেট সঠিক হতে হবে। আমরা যদি প্রবাসী শ্রমিকদের টার্গেট করি, তাহলে সেখানে ব্যবসাসফল হওয়ার সুযোগ কম। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, এমিরেটসের গ্রাহক বাংলাদেশে অনেক আছে, যাঁরা সেবার মানের কারণে বিমানকে বেছে নেন না।’ 



মন্তব্য