kalerkantho


ভৈরবের বাঁধ ভেঙে ছয় গ্রাম প্লাবিত

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

১৬ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ভৈরবের বাঁধ ভেঙে ছয় গ্রাম প্লাবিত

বাগেরহাটের ভৈরবের বাঁধ ভেঙে সদর উপজেলার হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ছবিটি মাঝিডাঙ্গা গ্রামের। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাগেরহাটে ভৈরব নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে ছয় গ্রামের দুই হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গ্রামে পানি ঢুকে পড়ায় মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। ডুবে আছে কয়েক হেক্টর জমির সবজিক্ষেত। জোয়ারের সময় রূপসা-বাগেরহাট পুরাতন সড়কের রহিমাবাদ এলাকার ওপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানগুছি নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে মোরেলগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি অনেক পরিবারে রান্নার কাজ বন্ধ রয়েছে। অনেকের আবার কাটছে নির্ঘুম রাত। পানিবন্দি পরিবারগুলো অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করছে। কোনো কোনো এলাকায় গ্রামবাসী নিজেরাই কাঁদামাটি দিয়ে ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, জরুরি ভিত্তিতে বাঁধের ভাঙন রোধ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। অনুমতি পেলে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য জানান, পানির চাপে সড়ক বিলীন হয়ে গেলে জনদুর্ভোগে পড়বে এলাকবাসী। জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের জন্য সরকারের কাছে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল বুধবার বাগেরহাটের মাঝিডাঙ্গা গ্রামে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভৈরব নদ ঘেঁষা বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে গ্রামে পানি ঢুকছে। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি জমে আছে। হাঁটুপানি মারিয়ে রাস্তার ওপর গ্রামবাসী চলাচল করছে। পানির চাপে কোনো কোনো এলাকায় রাস্তার কার্পেটিং ভেসে গেছে। আর  গঞ্জামবাসী ভেঙে যাওয়া বাঁধের অংশে বাঁশের খুঁটি আর কাদামাটি ফেলে পানি বন্ধ করার চেষ্টা করছে। জোয়ারের পানি বন্ধ করা না গেলে একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হতে পারে—এমন আশঙ্কা গ্রামবাসীর।

জানা গেছে, ভৈরব নদ ঘেঁষা বাগেরহাটের কাড়াপাড়া, বিষ্ণুপুর ও যাত্রাপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৪/১ পোল্ডারের অধীনে ভৈরব নদের পাড়ে বাঁধ রয়েছে। ওই বাঁধের বিভিন্ন অংশ কয়েক বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জোয়ারে পানি বাড়লেই ওই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেয়। আর পানি ঢুকে পড়ে গ্রামে। গত মঙ্গলবার রাতে জোয়ারের চাপে ভৈরব নদের বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে বাগেরহাট সদর উপজেলার মাঝিডাঙ্গা, কোড়ামাড়া, কুকোড়ামাড়া, ডিংশাইপাড়া, বিষ্ণুপুর ও পোলঘাট গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে। ওই সব গ্রামের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। তাদের এক হাজার মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। ১০ হেক্টর ফসলি জমির সবজি ও গাছপালা পানিতে ডুবে আছে।

এ ছাড়া ভৈরব নদ ঘেঁষা বাগেরহাট-রূপসা পুরাতন সড়কের রহিমাবাদ এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক দিন ধরে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। জোয়ারের পানি সড়ক উপচে গ্রামে ঢুকে পড়েছে। জোয়ারের সময় হাঁটুপানির ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে ওই সড়কে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি রহিমাবাদ গ্রামে ঢুকে পড়ায় ওই গ্রামের শতাধিক পরিবার কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে। ভাটার সময় ওই সড়ক দিয়ে পানি নেমে গেমলও জোয়ারে হাঁটুপানি জমে থাকে।

সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শংকর কুমার চক্রবর্ত্তী জানান, জোয়ারে ভৈরব নদেও বেড়িবাঁধের কিছু অংশ ভেঙে কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। দ্রুত ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামতের দাবি জানান ওই চেয়ারম্যান।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল জানান, রাতের জোয়ারে ৩৪/১ পোল্ডারের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। ইতিমধ্যে তাদেও লোকজন ঘটনাস্থলে গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মীর শওকাত আলী বাদশা বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের জন্য সরকারের কাছে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করে বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি।’

 



মন্তব্য