kalerkantho


জালিয়াতি মামলা

রাগীব আলী ও তাঁর ছেলের সাজা আপিলেও বহাল

সিলেট অফিস   

১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি করে সিলেটের তারাপুর চা বাগান দখলের মামলায় সিলেটের বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আব্দুল হাইকে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৪ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন জজ আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটের বিশেষ দায়রা জজ দিলীপ কুমার ভৌমিক এ রায় দেন। একই সঙ্গে রাগীব আলী ও তাঁর ছেলেকে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমপর্ণ করে অবশিষ্ট সাজা ভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নওসাদ আহমদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আলোচিত এ মামলায় ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো পাঁচটি ধারায় রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আব্দুল হাইকে ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা সিলেট মহানগর জজ আদালতে আপিল করেন। পরে আপিলটি নিষ্পত্তির জন্য সিলেটের বিশেষ দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। আদালত শুনানি শেষে গতকাল নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে আদেশ দেন।

আদালতে গতকাল রাগীব আলী ও তাঁর ছেলের পক্ষে শুনানি করেন সাবেক আইনমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরু ও সিলেট জজকোর্টের আইনজীবী এ টি এম মাসুদ টিপু। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ জজ আদালতের পিপি নওসাদ আহমদ চৌধুরী।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি করে তারাপুর চা বাগানের সম্পত্তি আত্মসাতের এ মামলায় ২০১৬ সালের ১২ আগস্ট আদালত রাগীব আলী ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু ওই দিনই তাঁরা দুজন সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। প্রায় দুই মাস পর ওই বছর ১২ নভেম্বর সিলেট ফেরার পথে গ্রেপ্তার হন রাগীব আলীর ছেলে আব্দুল হাই। আর ২৩ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশ রাগীব আলীকে আটক করে দেশে ফেরত পাঠায়। এরপর প্রায় ১১ মাস পিতা-পুত্র জেলে ছিলেন। জেলে থাকাবস্থায় ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির পৃথক চারটি ধারায় ১৪ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুটি ধারায় ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন। তবে পৃথক চারটি ধারায় মোট ১৪ বছর সাজা দেওয়া হলেও একসঙ্গে সাজা ভোগের কারণে সর্বোচ্চ ছয় বছর তাদের কারাভোগ করার কথা। কিন্তু উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর তাঁরা জেল থেকে বেরিয়ে আসেন। একই সঙ্গে তাঁরা নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল মামলা চালিয়ে যান। গতকাল আপিলটি খারিজ করে নিম্ন আদালতের সাজাই বহাল রাখেন বিশেষ জজ আদালত।

 



মন্তব্য