kalerkantho


চুয়াডাঙ্গার ২০ জনের ‘চোখ হারানো’

মন্ত্রণালয়ের দুই রিপোর্টে গরমিল, হাইকোর্ট বিস্মিত

‘ডাক্তারদের নৈতিকতার মান কোথায়!’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



মন্ত্রণালয়ের দুই রিপোর্টে গরমিল, হাইকোর্ট বিস্মিত

চুয়াডাঙ্গায় বেসরকারি হাসপাতালে গত মার্চে অস্ত্রোপচারের পর ২০ জনের ‘চোখ হারানো’র বিষয়ে দুই মাসের ব্যবধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আদালতে স্ববিরোধী দুটি প্রতিবেদন দাখিল করায় হাইকোর্ট বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আদালত বলেছেন, ‘বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট প্রমাণ করে, আমাদের দেশে ডাক্তারদের নৈতিকতার মান কোথায়!’ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেন।

‘চোখ হারানো’র বিষয়ে গত ১৩ মে দেওয়া প্রথম তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ছানি অপারেশন ও জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ত্রুটির কারণেই রোগীদের একটি করে চোখ নষ্ট হয়েছে। এর দুই মাস পর ১৫ জুলাই দেওয়া দ্বিতীয় প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ভূয়সী প্রশংসা করে বলা হয়েছে, রোগীর চোখে সংক্রমণ হয়, যা অনিচ্ছাকৃত ও দুর্ঘটনাজনিত। এ ক্ষেত্রে হাসপাতালের কোনো অবহেলা পরিলক্ষিত হয়নি। চোখ হারানো প্রত্যেককে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানিতে দুটি প্রতিবেদনে গরমিল দেখে আদালত উল্লিখিত মন্তব্য করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (বাশার)। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট অমিত দাস গুপ্ত, সুভাষ চন্দ্র দাস। ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. মো. খাইরুল আলমের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম।

শুনানির শুরুতে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম দুটি তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন, রিপোর্টে অপারেশনকারী ডাক্তারদের ‘দক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই সময় আদালত বলেন, ‘ডাক্তারদের দক্ষতা নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই। আমরা জানতে চাই, চিকিৎসাজনিত কোনো অবহেলার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কি না? অপারেশনের প্রথম ও তৃতীয় দিন কোনো অঘটন ঘটেনি। চোখ হারানোর ঘটনা ঘটেছে অপারেশনের দ্বিতীয় দিন। সে ক্ষেত্রে সেদিন (দ্বিতীয় দিন) যেসব চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়েছে, তার কোনো না কোনো কিছুতে জীবাণুর উপাদান ছিল, যা সংক্রমিত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে? এ ক্ষেত্রে ডাক্তারদের কোনো চিকিৎসাজনিত অবহেলা ছিল কি না, যা তাঁদের আগেই পরীক্ষা করা উচিত ছিল, কিন্তু তাঁরা তা করেননি?’

জবাবে ব্যারিস্টার আমীর বলেন, রিপোর্টে বলা হয়েছে ‘অপারেশনকৃত চোখ নষ্ট হয়েছে। কিন্তু অন্য চোখটি নষ্ট হয়নি।’ আদালত এ বাক্যটিতে আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘এই মন্তব্য অপ্রত্যাশিত এবং বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট প্রমাণ করে আমাদের দেশে ডাক্তারদের নৈতিকতার মান কোথায়!’

শুনানির একপর্যায়ে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ওষুধ সরবরাহকারীদের এ মামলায় পক্ষভুক্ত করার আবেদন জানান। তখন আদালত বলেন, ‘আপনি তাদের পক্ষভুক্ত করুন।’ এরপর আদালত মামলাটির শুনানি আজ বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত মুলতবি করেন।

‘চক্ষু শিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন!’ শিরোনামে গত ২৯ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদন করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত। এ বিষয়ে হাইকোর্ট গত ১ এপ্রিল রুল জারি করেন। ওই রুলের ওপর শুনানি চলছে।

 



মন্তব্য