kalerkantho


কোটা সংস্কারপন্থীরা ফের হামলার শিকার, চার শিক্ষকও লাঞ্ছিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



কোটা সংস্কারপন্থীরা ফের হামলার শিকার, চার শিক্ষকও লাঞ্ছিত

কোটা সংস্কার আন্দোলনে গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করলে তাদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। ছবি : কালের কণ্ঠ

কোটা সংস্কারের পক্ষে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও হামলার শিকার হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক খান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীমউদ্দীন খান, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গতকাল রবিবার সকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে শহীদ মিনারের মূল বেদিতে মানববন্ধন করা হয়। এ সময় ছাত্রলীগ আইন অনুষদের সামনের রাস্তায় পাল্টা কর্মসূচি পালন করতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে শিক্ষকরা বক্তব্য দেওয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের দিকে মাইক ঘুরিয়ে কটূক্তি করতে থাকে। তারা ‘পাকিস্তানি রাজাকার শিক্ষকদের বহিষ্কার করতে হবে’, ‘শিক্ষকরা জামায়াত-শিবিরের দোসর’ বলেও মন্তব্য করে। কটূক্তি শুনে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা বিচারের দাবি জানিয়ে বিচার না হওয়া পর্যন্ত শহীদ মিনারে অবস্থানের ঘোষণা দেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হুমকি দেয়, ‘পাকিস্তানের দোসর’ শিক্ষকদের বহিষ্কার না করা পর্যন্ত তারাও অবস্থান করবে। একপর্যায়ে দুই শিক্ষক তানজীমউদ্দীন খান ও ফাহমিদুল হক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের দিকে রওনা দিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের পিছু নেয়। মিছিলটি শিববাড়ী মোড়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসিক ভবন বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের কাছে এলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিলে ঢুকে পথ আটকে দাঁড়ায়। এমন সময় ছাত্রলীগের জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। তখন শিক্ষকরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের লাঞ্ছিত করা হয়।

অধ্যাপক ফাহমিদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবি জানাতে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। মানববন্ধন চলাকালে তারা আমাদের গালি দিয়েছে। রাজাকার ও দালাল বলেছে। পরে আমরা শহীদ মিনার ত্যাগ করে রাজু ভাস্কর্যের দিকে যেতে গেলে আমাদের ওপর হামলা চালায়। শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করে।’

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, শহীদ মিনারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী যারাই ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেখানে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা গিয়ে সবাইকে সরে যেতে বললে তারা অসহযোগিতা করে। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ‘শহীদ মিনার এলাকায় হামলায় ছাত্রলীগের কেউ ছিল না। ছাত্রলীগের কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে যেতে পারে। যদি জড়িত থাকে তাহলে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব।’

গতকালের এই হামলার নিন্দা ও গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

কোটা আন্দোলনের নেতাদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, হয়রানি বন্ধ ও কোটা সংস্কার দাবিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের ১৩ আইনজীবী।

এদিকে কোটাব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারিসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোট প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিতে এগোলে পুলিশ শাহবাগ থানার সামনে তাদের আটকে দেয়।



মন্তব্য