kalerkantho


কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা সুহেল গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা সুহেল গ্রেপ্তার

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক এ পি এম সুহেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ডিবি পরিচয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি লাকি আক্তারের চামেলীবাগের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার ও আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে ডাকা কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকটি বিভাগে গতকাল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) মাসুদুর রহমান গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে জানান, সুহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে পর্যন্ত পুলিশের কোনো পক্ষ থেকেই সুহেলকে গ্রেপ্তার বা আটকের কথা স্বীকার করা হয়নি। তবে কী অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাত্ক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে তা জানানো হয়নি।

ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি লাকি আক্তার গতকাল সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে সুহেলকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়ার কথা বলেন। লাকি তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আমার বাসায় ভোররাত সোয়া ৪টা নাগাদ ডিবি পুলিশ অভিযান চালায়। ৮-১০ জনের একটা দল...। শুরুতে তাঁরা বেশ উত্তেজিত ছিলেন। আমি জানতে চাইলাম—এত রাতে কোন অভিযোগে আমার বাসায় তল্লাশি করবেন তাঁরা। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাঁরা দরজা ভেঙে ফেলার হুমকি দেন। বাগিবতণ্ডার পর তাঁরা বাড়িওয়ালাকে নিয়ে এলে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দরজা খুলি।’

ফেসবুকের ওই পোস্টে লাকি আরো বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আমার ডিপার্টমেন্টের ছোট ভাই এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক সুহেল আমার বাসায় ছিল। তাঁরা (সাদা পোশাকের লোকজন) তাকে তুলে নিয়ে গেছেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা তাঁরা আমার বাসায় অবস্থানকালে সুহেলকে আলাদা রুমে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় আমাদের সব ফোন তাঁরা জব্দ করে রাখেন। আমার ফোনও তাঁরা চেক করেন। যদিও সুহেলের ব্যবহৃত একটি ফোন ছাড়া আর কিছুই তাঁরা পাননি।’

লাকি আরো বলেন, ‘সুহেল যাওয়ার আগে তার মাকে কিছু না জানাতে অনুরোধ করেছে। কিছুদিন আগে তার বাবা মারা গেছেন। তাই এ ঘটনা জানতে পারলে তার মা আরো ভেঙে পড়তে পারেন। আমি এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানাই।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র সুহেল বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক। গত ২৩ মে পুরান ঢাকায় তার ওপর হামলা হয়। তাকে প্রথমে আসগর আলী হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

লাকি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুহেল ক্যাম্পাসে আমার ডিপার্টমেন্টের ছোট ভাই। গত রাতে সে আমার বাসায় খেলা দেখতে এসেছিল। খেলা দেখা শেষে আমার ছোট ভাইয়ের রুমে একসঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর রাতে ডিবি পরিচয়ে সাদা পোশাকের কয়েকজন তাকে আটক করে নিয়ে যান।’

সুহেল গ্রেপ্তারের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আটক করেছে বলে শুনেছি। তবে কেন, তা জানি না। কেউ অপরাধ করলে শাস্তি পাবে আর না করলে মুক্তি পাবে—এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার।’

ঢাবির কয়েকটি বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার ও আটককৃতদের মুক্তি দাবিতে বুধবার রাতে সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক দেয় ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। তাতে সাড়া দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি বিভাগে গতকাল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ১৪টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে। এর মধ্যে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে প্রায় চার দিন ধরে। বিভাগের শিক্ষার্থী কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমানের মুক্তির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ক্লাস বন্ধ রেখেছে অনুষদের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ, শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগ (মাস্টার্স), উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের (চতুর্থ বর্ষ) শিক্ষার্থীরা।

কলা অনুষদভুক্ত বাংলা বিভাগ, আরবি সাহিত্য বিভাগ ও আইন বিভাগে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে প্রায় ১০ দিন ধরে। অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগ, মার্কেটিং বিভাগ, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, দুর্যোগবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, যতটুকু জানি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগেই ক্লাস হয়েছে। তবে যে বিভাগগুলোতে ক্লাস হয়নি সেসব বিভাগের শিক্ষার্থীদের বলব দাবিদাওয়া থাকলে বিভাগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে উত্থাপন করতে। আমরা বসে সমাধান করব।



মন্তব্য