kalerkantho


জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

অবৈধ বসবাস বহাল রাখতে ১০ তলা ভবনের কাজে বাধা!

তৌফিক মারুফ   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বাসা ভাড়া দিচ্ছেন না, বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস বিলও দেন না। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে সরকারি বাসায় থেকে এমন সুবিধা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় বিশতলা নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণ বন্ধে মরিয়া হয়ে উঠেছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কিছুসংখ্যক কর্মচারী। নেপথ্যে এমন কারণ থাকলেও প্রকাশ্যে তাঁরা অজুহাত তুলছেন ভিন্ন। তাঁদের অভিযোগ, নির্মাণাধীন নতুন ভবনে প্রস্তাবিত প্রতি ইউনিট বানানো হচ্ছে খুবই ছোট আকারে।

কয়েক দফা চেষ্টা করেও নির্মাণকাজ শুরু করতে পারছে না সরকারের গণপূর্ত বিভাগ। কর্মচারীরা তাঁদের দখলে রাখা জায়গা ছেড়ে না যাওয়ায় কর্মস্থল বুঝিয়ে দিতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতির মুখে এখন ওই ভবনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, গত ৬ জুন তাদের দপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক বরাবর চিঠি পাঠিয়ে নির্মাণকাজ করার জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্মস্থল বুঝিয়ে দিতে বলেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণে (দ্বিতীয় থেকে ১০ তলা পর্যন্ত) কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। চুক্তি মোতাবেক কাজ শেষ করার মেয়াদ ১২ মাস। কিন্তু প্রকল্প এলাকায় কর্মচারীদের বসবাস থাকায় তাঁদের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই কর্মস্থলে বসবাসকারী কর্মচারীদের অপসারণ বা স্থানান্তর করে প্রকল্প এলাকা বুঝিয়ে না দিলে কাজে বিলম্ব হওয়ার পাশাপাশি আইনগত জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

গণপূর্ত বিভাগের নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা গত ২৭ জুন কর্মস্থলে গার্ডরুম ও লেবার শেড তৈরি করতে গেলে সেখানে আগে থেকে বসবাসকারী হাসপাতালের কর্মচারীরা তাঁদের বাধা দেন এবং শ্রমিকদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গণপূর্ত বিভাগে অভিযোগ করা হয়েছে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ১৯৯৪ সালে প্রতিটি তলায় ৫০০ বর্গফুট আয়তনের আটটি করে মোট ৮০ ফ্ল্যাটবিশিষ্ট ১০ তলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। প্রথম পর্যায়ে তিন বছর মেয়াদে চার কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বি আলম অ্যান্ড ব্রাদার্স। কিন্তু ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত একতলা নির্মাণের পর কাজ থেমে যায়। চলতি বছর আবার সেই প্রকল্প জীবন ফিরে যায়। শুরু হয় বাকি অংশের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া। কিন্তু এ প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই প্রকল্প এলাকায় বসবাস করা কর্মচারীরা নানাভাবে বাধার সৃষ্টি করতে থাকেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেও তাঁদের ওই স্থান থেকে সরাতে পারছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, প্রকল্প এলাকায় আগে নির্মিত একতলা ভবনে যেসব কর্মচারী এত দিন ধরে বসবাস করে আসছেন, তাঁরা ভাড়া কিংবা পানি ও বিদ্যুৎ বিল কিছুই দেন না। নতুন ভবনের কাজ শুরু হলে তাঁদের এই অবৈধ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে—এমন আশঙ্কায় তাঁরা বাধা দিচ্ছেন। আর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলে কিছুদিন পরেই এর বরাদ্দ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা আছে।

জানতে চাইলে প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারী ১৪ জন কর্মচারীর একজন আহসান হাবিব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কর্মচারী হিসেবে আমরা এখানে বিনা ভাড়ায় থাকার বিশেষ সুবিধা পেয়েছি। হাসপাতালের বিগত পরিচালকের আমলে আমাদের এ সুযোগ দেওয়া হয়। তাই বলে আমরা এখানে আজীবন থাকার কথা বলছি না, আমরা যখন-তখন নেমে যেতে রাজি আছি, কিন্তু আমরা চাই নতুন যে ভবন হবে সেখানে কমপক্ষে ৮০০ স্কয়ার ফিটের প্রতিটি ইউনিট তৈরি করার সিদ্ধান্ত হোক। কারণ ৫০০-৬০০ স্কয়ার ফিটের কোনো ইউনিট এখন একটি পরিবারের বসবাসের উপযোগী নয়।

তবে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ভবনটির মূল ফাউন্ডেশন বহু বছর আগেই নির্মাণ করা হয়; যেখানে একতলার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এখন আর সেই ভবনে কারিগরি কারণেই বড় আকারের ইউনিট করা সম্ভব হবে না। তবু আমরা চেষ্টা করছি কোনোভাবে ৫০০ স্কয়ার ফুটের বদলে ওপরে নকশায় কিছুটা বাড়ানো যায় কি না। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিস্থিতি কিছুটা নমনীয় হয়েছে। আশা করা যায়, কিছুদিনের মধ্যেই কর্মচারীদের সরিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ শুরুর জন্য আমাদের প্রকল্প এলাকা বুঝিয়ে দিতে পারবে।’



মন্তব্য