kalerkantho


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষক করলেন বাল্যবিয়ে

নাটোরে সাংবাদিক লাঞ্ছিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নাটোর প্রতিনিধি   

২৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের চরকাকুরিয়া সিরাজ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বাল্যবিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার তিনি কনেকে বাড়িতে আনেন। গত শুক্রবার বউভাত অনুষ্ঠিত হয়। এ বিয়েতে সংশ্লিষ্ট অনেকে বাদ সাধলেও স্কুলশিক্ষক কথা শোনেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে নাটোরের সিংড়ায় এক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের বাল্যবিয়ের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন স্থানীয় আশরাফুল ইসলাম সুমন। এ ঘটনায় তিনি সিংড়া থানায় জিডি করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় জানা যায়, সরাইল উপজেলার রাণিদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সিরাজ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জিয়াউল আমিন বাল্যবিয়ে করেন। জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী কনের বয়স গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ছিল ১৭ বছর আট মাস ১৩ দিন। সাত লাখ টাকা দেনমোহরে এ বিয়ে হয়।  বিয়ে ও বউভাত অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

তবে স্কুলশিক্ষক জিয়াউল আমিন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গতকাল শনিবার বিকেলে মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘কনের বয়স তো কম হওয়ার কথা না।’

এ ব্যাপারে অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিয়ের জন্য নির্ধারিত বয়সের চেয়ে কনের বয়স দু-এক মাস কম। এমন বিয়ে অনেক জায়গায়ই হচ্ছে। ইউএনও মহোদয়ের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলি। গ্রামের সবাই মিলে এ বিয়ে দিয়েছে। গ্রাম্য রাজনীতির কারণে এখন বিষয়টি অনেক ছড়ানো হচ্ছে।’

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইসরাত বলেন, ‘মেয়েটির বয়স কম হওয়ার বিষয়টি জানার পর প্রথমে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে বিয়েটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আবার বিয়ে হয়েছে বলে শুনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেই রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’

নাটোরের ঘটনায় জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের সুকাশ গ্রামের সুকাশ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লোকমান হোসেনের ছেলের বাল্যবিয়ের আয়োজন চলছে—এমন খবর সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টু, বেলাল, সিদ্দিকসহ আরো অনেকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং তাঁকে ও গ্রাম পুলিশ আবু সাইদকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ ছাড়া খবর প্রকাশ ও পরবর্তী সময়ে ওই এলাকায় গেলে তাঁর প্রাণনাশের হুমকিও দেন তাঁরা। বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো হলে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে।

সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছি।’



মন্তব্য