kalerkantho


আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূলের শঙ্কা

অনুপ্রবেশকারীদের কারণে বড় ক্ষতি হবে দলের

তৈমুর ফারুক তুষার   

২৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



অনুপ্রবেশকারীদের কারণে বড় ক্ষতি হবে দলের

বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশকারী ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতারা। এই ধারা চলতে থাকলে ‘নৌকার সলিলসমাধি’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন তাঁরা। গতকাল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে এমন আশঙ্কার কথা জানান দেশের আট বিভাগের আটজন আওয়ামী লীগ নেতা।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত সাড়ে ৯ বছর টানা ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগে আশ্রয় নেওয়া সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ নিতে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে অনুরোধ জানান তৃণমূল নেতারা। এর আগে সভার শুরুতে বক্তব্যে শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারীদের সুবিধাবাদী উল্লেখ করে তাদের বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বিশেষ বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর দেশের আট বিভাগ থেকে আটজন প্রতিনিধিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রথমেই রংপুর বিভাগের পক্ষে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘আজ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এই বক্তব্যে আমরা অনুপ্রাণিত হব, সংগঠনকে শক্তিশালী করব, উন্নয়নের কথাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেব, মানুষের কাছে যাব, মানুষকে সুসংগঠিত করে আগামী নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করব। আজ সারা দেশের নেতাকর্মীরা এখানে এসেছে। আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে নিজেদের সংগঠিত করব এবং উন্নয়নশীল দেশ গঠনে ভূমিকা রাখব।’

খুলনা বিভাগের পক্ষে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অনুসরণ করলেই আর অন্য কিছু করার দরকার পড়বে না। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন এখানে বলবেন, সব ঠিক আছে। পরে যদি ভাগে কম পড়ে তখন বলবেন, না, কিছুই ঠিক হলো না।’ ’ি

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অনেক উন্নয়ন করেছেন, কিন্তু আমরা যদি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এগুলো না বোঝাই তাহলে জয়ের কাজটি কঠিন হয়ে যাবে। নেত্রী সারা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। আমাদেরও রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি জেলায় নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করতে হবে।’

বরিশাল বিভাগের পক্ষে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, ‘রাজনৈতিক দল কোনো সামরিক বাহিনী নয়; কিন্তু আমরা রাজনৈতিক দলের আদর্শ যদি সামরিক বাহিনীর মতো কমান্ড মেনে চলি তাহলে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করতে পারবে। আমরা যদি আত্মবিশ্বাস নিয়ে, নেত্রীর প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে এগিয়ে যেতে পারি তাহলে এ দেশে এমন কোনো শক্তি নেই, যা আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে পারে।’

ময়মনসিংহ বিভাগের পক্ষে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাকী বিল্লাহ বলেন, ‘আজকে বাইরে থেকে এত বেশি মানুষ নৌকায় উঠেছে যে আমরা যারা পঁচাত্তরপরবর্তী সময় থেকে নৌকায় বসে আছি তাদের পশ্চাদ্দেশের কাপড় ভিজে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে এই নৌকার সলিলসমাধি হবে। এই নৌকা আর তীর খুঁজে পাবে না। সে জন্য এখনো সময় আছে, ওই জিয়াউর রহমান একদিন বাকশালের ফরম পূরণ করে বঙ্গবন্ধুর হাতে দিয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বলেছে, সো হোয়াট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার। আজকেও কিন্তু ওই জিয়ার প্রেতাত্মারা, ওই খন্দকার মোশতাকের প্রেতাত্মারা হাজারে হাজারে আওয়ামী লীগের ওপর ভর করেছে। সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।’

সিলেট বিভাগের পক্ষে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেসার আহমেদ বলেন, ‘আজকে যে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়েছেন তা আমরা সিলেট বিভাগের নেতাকর্মীরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। আগামী জাতীয় নির্বাচনে আমরা অতীতের চেয়ে আরো ভালো করব। আপনি যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা আমাদের আগামী দিনের পাথেয় হবে।’

ঢাকা বিভাগের পক্ষে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ বলেন, ‘মাননীয় সভাপতি, আপনি আমাদের যে আসনগুলোতে সমস্যা আছে সেখানে যদি দ্রুত একটি টিম পাঠিয়ে সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারেন তাহলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মতো কোনো দল এখন আর নেই। বিএনপি-জামায়াতকে খুঁজে পাওয়া যায় না; কিন্তু নির্বাচনের দিন কী হবে বলতে পারি না। সে জন্য যেখানে সমস্যা আছে আপনি নিজে হস্তক্ষেপ করে, যা ভালো মনে করেন সেই সিদ্ধান্ত দেবেন। আপনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা সেটা মেনে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। কিন্তু সেই পরিবেশ ঠিক করে দিতে হবে। অনেক সংসদ সদস্য আছে, যারা কর্মসূচিতে যায় না, অনুষ্ঠানে যায় না, এক মঞ্চে যায় না, কথাও বলে না, পাল্টাপাল্টি মারামারি হচ্ছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগকে হারানোর জন্য যথেষ্ট।’

চট্টগ্রাম বিভাগের পক্ষে চসিক মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। সব খাতে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন করেছেন। এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আমরা যদি মানুষের কাছে ঠিকমতো পৌঁছতে পারি তাহলে আমাদের বিজয় কেউ আটকাতে পারবে না।’



মন্তব্য