kalerkantho


পদ্মা সেতুর ব্যয় বাড়ল ১৪০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর ব্যয় বাড়ল আরো এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সোয়া ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির ব্যয় বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সংশোধিত আকারে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া গতকাল একনেক সভায় আরো ১৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। নদী শাসনের জন্য এক হাজার ১৬২ একর জমি অধিগ্রহণে এই টাকা খরচ হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রথম যখন প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়, তখন এর ব্যয় ছিল সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটির ব্যয় বাড়িয়ে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করে। নদী শাসনের কারণে এখন সেটির ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০টি প্রকল্পের মধ্যে একটি। এ পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হার ৫৩ শতাংশ। গতকালের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। 

ই-পাসপোর্টের জন্য ৪,৬৩৫ কোটি টাকা : গতকালের সভায় ই-পাসপোর্ট চালুকরণ শিরোনামে আলাদা একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ‘বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন’ শিরোনামের প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে চার হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। পুরো টাকাই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর।

পরিকল্পনা কমিশনের দেওয়া তথ্য মতে, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালের ১ এপ্রিল থেকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও  মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) পদ্ধতি চালু করে। কিন্তু এমআরপি ব্যবস্থায় পাসপোর্টের জালিয়াতি এবং ১০ আঙুলের ছাপ ডাটাবেজে সংরক্ষণ না থাকার সুযোগে ওই পদ্ধতিটির দুর্বলতার কারণে একাধিক পাসপোর্ট করার প্রবণতা ধরা পড়ে। তারপর থেকে দেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমটি চালুর দাবি উঠে আসে বিভিন্ন মহল থেকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ উদ্বোধনের সময় বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট চালুর নির্দেশ দেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ প্রকল্পের আওতায় ই-পাসপোর্ট বুকলেট সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া ১০ আঙুলের ছাপ, চোখের কর্নিয়ার ছবি এবং ডিজিটাল সই সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তথ্য কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার ও ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টারের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে পাসপোর্টের আবেদনকারীদের পাসপোর্ট দেওয়ার জন্য পার্সোনালাইজেশন সেন্টারে পাসপোর্ট প্রিন্টিংয়ের পর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ও দূতাবাসে পাসপোর্ট পাঠানো এবং তৈরি পাসপোর্ট বিতরণ। এসব কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য সার্ভার, রাউটার, সুইচ, কম্পিউটার প্রিন্টার, স্ক্যানার, ক্যামেরা, ই-পাসপোর্ট রিডার, প্রিন্টিং মেশিন স্থাপন করা হবে।

সভায় পদ্মা সেতু প্রকল্প সংশোধন, ই-পাসপোর্টসহ মোট ১৫ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে ১৮ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ২২৯ কোটি, বাস্তবায়নকারী সংস্থার তহবিল থেকে ৫৮৮ কোটি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ছয় হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা পাওয়ার আশা করছে সরকার। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৬১১ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিপিডিসির আওতায় ঢাকার কাওরানবাজারে ভূ-গর্ভস্থ উপকেন্দ্র নির্মাণ, ৬৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে লং টার্ম সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট ফর ভেড়ামারা কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, এক হাজার ৮১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে লাকসাম এবং চিনকী আস্তানার মধ্যে ডাবল লাইন ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প (সংশোধিত), দুই হাজার ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সিগন্যালিংসহ টঙ্গী ভৈরববাজার সেকশনে ডাবল লাইন নির্মাণ (সংশোধিত), ৮৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক নির্মাণ প্রকল্প।



মন্তব্য