kalerkantho


প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ৭ সংগঠনের

ইন্টারনেট ব্যবহার করমুক্তের দাবি

বিশেষ প্রতিনিধি   

২১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ইন্টারনেট ব্যবহার করমুক্তের দাবি

দেশের তথ্য-প্রযুক্তি শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রধান সাতটি ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাজেটে তথ্য-প্রযুক্তি শিল্পের বিষয়ে যেসব প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে এ খাতের উন্নয়নের আশানুরূপ প্রতিফলন নেই। সংগঠনগুলো ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর সব ধরনের কর তুলে নেওয়াসহ তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ওপর থেকে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) প্রত্যাহারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।

গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটব, বাংলাদেশে অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বিএসিসিও), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ), ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) নেতারা এ আহ্বান জানিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাজেট ঘোষণার আগে অপারেটিং সিস্টেম, ডাটাবেইস, ডেভেলপমেন্ট টুলস এবং সাইবার সিকিউরিটি আমদানির ওপর থেকে শুল্ক কমানোর জন্য বেসিস থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু ঢালাওভাবে এগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য কম্পিউটার সফটওয়্যাারের আমদানি শুল্ক ২৫% থেকে কমিয়ে ৫% করা হয়েছে এবং মূসক সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় এ রকম সফটওয়্যারও বিদেশ থেকে আমদানি উৎসাহিত হবে। এর ফলে দেশীয় শিল্প মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। সংগঠনগুলো এ কারণে অন্যসব কম্পিউটার সফটওয়্যার আমদানির ওপর শুল্ক ও মূসক যথারীতি আগের হারে বহাল রাখার দাবি জানায়।

বক্তারা বলেন, তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ওপর ৫% মূসক আরোপ করা হয়েছে। এ সেবার ওপর ৪.৫% মূসক ধার্য ছিল। বর্তমানে এ সেবার পরিসর বাড়ছে। ফলে নানাবিধ উদ্ভাবন ও সেবা নিয়ে নতুন নতুন উদ্যোক্তা এ ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার এ খাতের আয়কর ২০২৪ সাল পর্যন্ত মওকুফ করেছে। অন্যদিকে এর ওপর মূসক বহাল রেখেছে। দেশীয় তথ্য-প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশে এসব সেবার ওপর থেকে সম্পূর্ণরূপে মূসক প্রত্যাহারের জন্য বেসিস থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু সে প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। আমরা এসব সেবার মূসক প্রত্যাহারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য প্রস্তাব করছি।

আরো বলা হয়, ইন্টারনেট বা ডাটা কানেকটিভিটি এখন বিশ্বব্যাপী মৌলিক অধিকারের অনুষঙ্গ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচক হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে। সরকার কয়েক দফা ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের মূল্য কমালেও ইন্টারনেটের ওপর ২১.৭৫ শতাংশ ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ গ্রাহকদের ওপর বোঝা হয়ে চেপে আছে। প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সব নাগরিকসেবা সহজলভ্য করতে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর থেকে সব ধরনের কর প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়।

সংগঠনগুলো অনলাইনে পণ্য বিক্রয় তথা ই-কমার্সের ওপর বিগত বছরের মতো কোনো ভ্যাট আরোপ না করায় অর্থমন্ত্রী ও তাঁর মাধ্যমে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তবে ভার্চুয়াল বিজনেস ও অনলাইনে পণ্য বিক্রি নিয়ে যেহেতু একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে এ দুটি বিষয়ের সংজ্ঞা স্পষ্ট করার প্রয়োজনের কথা বলেন।

সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, ‘ইন্টারনেট সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর জন্য নেটওয়ার্ক ইকুইপমেন্টের প্রয়োজন হয়। নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা ও সুলভ মূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ইন্টারনেট যন্ত্রপাতি—যেমন ফাইবার অপটিক কেবল, ওএলটি, ওএনইউ, ইথারনেট ইন্টারফেস কার্ড, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সুইচ, হাব, রাউটার, সার্ভার ব্যাটারির ওপর বর্তমানে ২২.১৬% ভ্যাট ও শুল্ক আরোপিত রয়েছে; এটি এ শিল্পের প্রসারে একটি বড় প্রতিবন্ধক। আমরা এই ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলাম। ঘোষিত বাজেটে ৮৪.৭১ এবং ৮৪.৭৩ শিরোনাম সংখ্যা/এইচ এস কোডে ব্যবসায়ী পর্যায়ে কম্পিউটার ও এর যন্ত্রাংশের মূসক অব্যাহতি প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব পরিবর্তনসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে মূসক অব্যাহতিসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন এসআরও নং-২২৪-আইন/২০১৭/৭৭৪-মূসক, তারিখ : ০১ জুলাই, ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ রহিতক্রমে প্রজ্ঞাপন এসআরও নং- ১৬৭-আইন/২০১৮/৭৯০-মূসক, তারিখ : ০৭ জুন, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ জারি করা হয়েছে। এর ফলে কম্পিউটার ও এর যন্ত্রাংশের মূল্য প্রায় ১১% বৃদ্ধি পাবে। এ অবস্থায় আগের প্রজ্ঞাপন বহাল রেখে ১১% মূসক প্রত্যাহার করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএমপিআইএর পক্ষে বলা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশে মোবাইল সংযোজন এবং উৎপাদনকারী উভয়কেই ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রজ্ঞাপনের শর্ত (ক) অনুযায়ী শুধু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতামুক্ত থাকবে, সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান নয়। যেখানে ২০১৭-১৮ সালের বাজেটে ঘোষিত সুবিধার কারণে কম্পানিগুলো বিশাল বিনিয়োগ করে কারখানা স্থাপন করেছে, সেখানে মাত্র এক বছরের মধ্যে ১৫% ভ্যাট আরোপ করার কারণে পূর্ণাঙ্গ মোবাইল আমদানির খরচের চাইতে স্থানীয়ভাবে সংযোজিত মোবাইলের খরচ অনেক বেশি পড়বে। এর ফলে কোনোভাবেই এই সংযোজন শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না এবং বিনিয়োগকারীরা বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই এই শিল্পের ওপর ঘোষিত ১৫% মূসক প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।



মন্তব্য