kalerkantho


চট্টগ্রামে দুই দুর্বৃত্তের নৃশংসতা

৯ মাসের শিশুকে চুবিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ জুন, ২০১৮ ০০:০০



৯ মাসের শিশুকে চুবিয়ে হত্যা

দুই দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকেই মায়ের কোল থেকে ৯ মাসের শিশুকে কেড়ে নিয়ে চুবিয়ে হত্যা করে। পরে ঘর থেকে ২০ হাজার টাকা ও সোনার আংটি ছিনিয়ে নেয় তারা। এমন মর্মপীড়ার ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গার সতীশ মহাজন লেইনে সাজু মহাজন ভবনের নিচতলার একটি বাসায়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এমন ঘটনা ঘটলেও তা জানাজানি হয়েছে গত সোমবার। পিবিআই মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরুর পরই গণমাধ্যমের নজরে আসে বিষয়টি।

হতভাগ্য শিশুটির নাম নিঝুম মিত্র তরী। তার বাবা রিপন মিত্র একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মা চম্পা মিত্র গৃহিণী। তাঁদের গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়ায়। তবে চাকরির সুবাদে তিনি পরিবার নিয়ে পতেঙ্গা এলাকায় থাকেন।

ঘটনার ব্যাপারে পিবিআইয়ের পরিদর্শক সদীপ কুমার দাশ জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই বাসায় দুই যুবক ঢুকেই মায়ের কোল থেকে ৯ মাসের শিশুকে ছিনিয়ে নেয়। পরে বাথরুমে গিয়ে বালতির পানিতে চুবিয়ে শিশুটিকে হত্যা করে। তারা বাসা থেকে টাকা ও সোনার আংটি নিয়ে যায়।

দুর্বৃত্তরা শিশুকে কেন এভাবে মারল, এমন রহস্য এখনো ভেদ করতে পারেনি থানা পুলিশ ও পিবিআই। ওই ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তারও করা যায়নি। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করছেন। এ ঘটনার পর শিশুর মা-বাবার সঙ্গেও ঘটনার বিবরণ জানতে কয়েক দফা বলা বলেছে তদন্তকারী দল।

রিপন মিত্র পুলিশ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ঘটনার দিন তিনি সাতকানিয়ায় গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। তাঁর বাসায় আরো দুজন নিকটাত্মীয় থাকেন। তাঁরাও কাজের প্রয়োজনে সন্ধ্যার সময় ঘরের বাইরে ছিলেন। বিকেল ৫টার পর কলিংবেলের শব্দ শুনে স্ত্রী চম্পা ঘরের দরজা খুলে দেন। দুই যুবক সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঢুকে চম্পার গলায় ছুরি ধরে। একজন তাঁর কোল থেকে শিশু তরীকে কেড়ে নিয়ে বাথরুমের দিকে চলে যায়। অন্যজন চম্পার গলায় ছুরি ধরে থাকে। একপর্যায়ে চম্পার কাছ থেকে চাবি নিয়ে আলমারি খুলে ড্রয়ার থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। রিপন মিত্র আরো জানান, আলমারির অন্য ড্রয়ারে আরো চার লাখ টাকা ছিল। কিন্তু তারা সেই টাকা পায়নি।

রিপন মিত্র জানান, দুই যুবক বের হয়ে যাওয়ার পরপরই চম্পা বাথরুমে গিয়ে তাঁর সন্তানকে বালতির ভেতর উপুর অবস্থায় পান। কোলে নেওয়ার পরই বুঝতে পারেন তরী বেঁচে নেই। তখনই চম্পা জ্ঞান হারান। পরে প্রতিবেশীরা বাসায় ঢুকে বিষয়টি দেখতে পায়। শেষে রিপনকে ফোন করে ঘটনার বিষয়ে জানান। তারপর রিপন দ্রুত বাসায় ফেরেন।

রিপন বাদী হয়ে পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুজনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পিবিআই মেট্রো অঞ্চলের পরিদর্শক সদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘পতেঙ্গা থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ছায়া তদন্ত করছে। খুনিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাদের ধরতে পারলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

শিশুকে চুবিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পতেঙ্গা থানার ওসি, বন্দর জোনের সহকারী কমিশনার, অতিরিক্ত উপকমিশনার এবং উপকমিশনারকে ফোন করা হয়। কিন্তু চারজনের কেউ ফোনে সাড়া দেননি। ফলে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত অগ্রগতি বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।



মন্তব্য