kalerkantho


ব্যক্তিগত কর্মীকে ঢাবির পরিচয়ে উচ্চশিক্ষায় বিদেশে পাঠালেন এক শিক্ষক!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কর্মী হিসেবে বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গেছেন মোস্তাক আহমেদ ইমরান। কিন্তু তিনি ঢাবিতে কর্মরত নন। ঢাবির এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহীন ইসলামের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী তিনি। তাঁকেই ঢাবির কর্মী বানিয়ে বিদেশে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে শাহীন ইসলামে বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় গত ১৫ মে একই বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক মেহতাব খানম ঢাবি উপাচার্যের কাছে শাহীন ইসলামের বিরুদ্ধে ‘নীতিবহির্ভূত’ কার্যকলাপের জন্য লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর এ ঘটনায় জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইমদাদুল হককে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান।

অধ্যাপক ইমদাদুল হক কালের কণ্ঠকে জানান, শাহীন ইসলাম কেন এই কাজ করেছেন তা লিখিতভাবে জানাতে তাঁকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বিদেশে থাকায় এখনো জবাব পাওয়া যায়নি। দেশে ফেরার পর তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলা হবে। এরপর প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে পাঠানো হবে। ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব উপাচার্যের।

অভিযোগে অধ্যাপক মেহতাব খানম বলেছেন, ‘অধ্যাপক শাহীন ইসলাম তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান ‘হিল বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’-এর সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ ইমরানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দেখিয়ে একটি বৃত্তি দিয়ে উচ্চতর শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছেন, যা নিয়মবহির্ভূত। তাঁকে যুক্তরাজ্যের অরফান ট্রাস্টের বৃত্তির আওতায় রোহ্যাম্পটন ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।’

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, ‘অরফান ট্রাস্টের প্রতিনিধি মিনা মরিসের পাঠানো ই-মেইল অনুযায়ী ‘দ্য অরফান ট্রাস্ট অ্যান্ড হোয়াইট ল্যান্ডস প্লে থেরাপি স্কলারশিপ’-এর জন্য আবেদনকারীর প্রথম শর্ত হচ্ছে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকতে হবে। প্লে থেরাপির ওপর প্রশিক্ষণ শেষে স্কলারশিপ গ্রহণকারীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থেকে তিন বছর প্লে থেরাপির প্রশিক্ষণ নিতে হবে। কিন্তু শাহীন ইসলাম যে আবেদনকারীকে সুপারিশ করে পাঠিয়েছেন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত নন। তবে তিনি ২০১৪-১৫ সেশনের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।’ অধ্যাপক শাহীন ইসলাম বিদেশে থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 



মন্তব্য